০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৬
২০২৩ সালে প্রণীত চা শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী গেজেট বাতিল করে সংসদে উত্তাপিত চা শ্রমিকদের মজুরি ৫শ টাকা নির্ধারণ, ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন এবং দ্রুত চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে শনিবার সকাল ৯টায় লালখাল ও গঙ্গারজুম চা বাগানে ২ঘন্টা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেন চা শ্রমিকরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক, লালখাল চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি অরুণ বুনার্জী, সহ-সভাপতি চা মতি জানি,সদস্য অঞ্জলি বাড়াইক, শ্রমিক ঐক্য বাগান শাখার সভাপতি সুহেল বুনার্জী, সাবেক মেম্বার মলিন বাড়াইক, তরু বাউরি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন " সংসদে চা শ্রমিকদের মজুরি ৫শ টাকার প্রস্তাব উপস্থাপন করে তা আবার বাতিল করে দেয়া বাস্তবে শ্রমিকদের সাথে প্রহসন। সংসদে প্রস্তাবটি বাতিল করা হয় মূলত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মজুরি নির্ধারণের কথা বলে। বাস্তবে সংসদও চা শ্রমিকদের ৫শ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি অস্বীকার করতে পারে নি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আন্দোলনের চাপেই সম্প্রতি সংসদে ৫শ টাকা মজুরির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, অবিলম্বে ২০২৩সালে করা গেজেট বাতিল করে সংসদে উত্থাপিত ৫শ টাকা মজুরির নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে চা শ্রমিকের মজুরি মাত্র ১৮৭টাকা। এই টাকা দিয়ে দিনে তিনবেলা খাবার জোগাড় করা যায় না। ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতন, চিকিৎসা খরচ চালানো তো আরোও কঠিন। তাই আমরা সংসদে উত্থাপিত ৫শ টাকা মজুরির কার্যকর করার দাবি জানাই। একই সাথে ৫শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির 'গেজেট-২৩' বাতিল করার আহ্বান জানাই।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আটকে আছে প্রায় ৮বছর। ফলে চা বাগান এক ধরণের নেতৃত্ব শূন্যতার মধ্যে আছে। নিজেদের দাবি-দাওয়াও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না। তাই চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও ভূমির অধিকার বাস্তবায়ন করা জরুরি।
এই দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন না হলে সকল চা শ্রমিকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুসিযারি দেন নেতারা।
আপনার মন্তব্য