০১ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৩
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া সাজিদ আহমেদ মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির শাবিপ্রবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
এদিকে, সাজিদ আহমেদ মোল্লার শাস্তির দাবিতে শনিবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে একদল শিক্ষার্থী। এরআগে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের নির্দেশে সাজিদকে বহিস্কার করে ছাত্রশক্তি।
ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে সংগঠনের সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শনিবার ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে অবমাননা, ভিকটিম ব্লেমিং ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নারীবিদ্বেষী মনোভাব আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি শাখার সংগঠক নাজনীন লিজা বলেন, "ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রশক্তি নেতার মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নারীর প্রতি অবমাননাকর। এছাড়া একটি শিশুকে নিয়ে তার এরকম মন্তব্য যে কি না অপ্রাপ্ত-বয়স্ক মেয়ে। যেটাকে বলা হয় পেডোফিল, অর্থাৎ শিশুকামিতার মতো জঘন্য একটা কাজের সাথে এই লোকটা জড়িত এবং আপনারা খেয়াল করে দেখবেন পরবর্তীতে তার কোনো অনুতাপ নেই।"
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায়ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভিকটিম ব্লেমিং, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং নারীদের হেয় করার অভিযোগ উঠেছে।
মানববন্ধনে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান বলেন, "এই ২৬ সালে এসেও কিছু নরপিশাচ বিকৃত মন মানসিকতার মানুষের জন্য আজকে আমাদের মা বোনরা নিরাপদ নয়। নারীদের ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তের বক্তব্য প্রমাণ করে তার বিকৃত মানসিকতা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।"
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)’ নামে একটি ফেসবুক পেজে সাজিদ আহমেদ মোল্লার মেসেঞ্জার কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাজিদ আহমেদ মোল্লা। তার দাবি, আলোচিত ম্যাসেঞ্জার চ্যাটটি প্রায় এক বছর আগে তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার অংশ। সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
সাজিদ বলেন, সমবয়সী আত্মীয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনে অনেক সময় হাস্যরস বা মজা করে বিভিন্ন ধরনের কথা বলা হয়। সেই ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য