সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ আগস্ট, ২০২৬ ০১:২৭

বিএনপি ‘জিয়া ব্যবসা’ করতে পারলে এনসিপি ‘জুলাই ব্যবসা’ করতে সমস্যা কোথায়?

ডা. মাহমুদা মিতুর প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আক্তার মিতু অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘১৭ বছরের মজলুম আজ জালিম হয়ে উঠেছে।’

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপি জেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মাহমুদা আক্তার মিতু বলেন, বিএনপি নির্যাতিত মানুষের দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও বাস্তবে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, ‘মজলুমরা কখনো জালিমের পক্ষে থাকে না। কিন্তু আপনারা আবার জালিম হয়ে উঠেছেন।’

ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গিয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে সংগঠন গড়ে তুলছে।

তারেক রহমানের ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে চাকরি দেওয়া হয়েছে, সেটি চাঁদাবাজির চাকরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি অন্তত এক বছর ভালো থাকার অভিনয় করতে পারত। কিন্তু তারা ছয় মাসও তা করতে পারেনি। ক্ষমতায় এসেই সবকিছু দলীয়করণ করেছে।’

ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশে বলে, জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলতে বলতে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে? ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে? বরং তারা বিষয়টি চাপা দিয়ে রাখতে চায়। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। জুলাই ব্যবসা করবেন। তারা যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, তাহলে জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী? আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, সেটা আসলে স্নেহ, মায়া, মমতা ও দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখব।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যে শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজ সরকার গঠন করেছেন, সেই শহিদদের মায়েরা আপনাদের কথা বলেন না। তারা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেন, সংবিধান সংস্কারের কথা বলেন, পুলিশ কমিশন ও গুম কমিশন গঠনের কথা বলেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের লড়াই শহিদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লড়াই, একটি ভালো রাষ্ট্র গড়ার লড়াই, হাজারো বেকার তরুণের হাতে চাকরি তুলে দেওয়ার লড়াই এবং নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠার লড়াই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। আমরা জনগণের প্রত্যাশার পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।’

ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘একটি লাঠি দিয়ে আঘাত করবেন, একটি চোখ অন্ধ করে ফেলবেন, এগুলোর কোনো ভয় আমরা করি না। আপনাদের মনে হয়, ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাদের দিয়ে, নোংরা ছবি এডিট করে এবং নোংরা মন্তব্য করে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে। আমরা এসবের কোনো পরোয়া করি না।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। সদস্যসচিব প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত