নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৫

সিলেটে নিজঘরে মা-মেয়ের মরদেহ: মামলা হয়নি, কথা বলতে চায় না পরিবার

ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে অন্তষ্ট্যিক্রিয়ার জন্য মরদেহ দুটি চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ ঘর থেকে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত (রোববার সন্ধ্যা) পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারও কোন কথা বলতে রাজি নয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেলে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।

এরপর নিহতদের মরদেহ অন্তষ্টিক্রিয়ার জন্য সিলেট নগরের চালিবন্দর মহাশ্মশান ঘাটে নিয়ে যান নিহতদের স্বজনরা। তবে হাসপাতালের কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকায় সেখানে অন্তষ্টিক্রিয়া হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জকিগঞ্জে নিয়ে যান স্বজনরা।

এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের নিজ বসতঘর থেকে চম্পা রাণী দাশ (৩৫) ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে হৃদি রাণী দাশের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।

চম্পা রাণী দাশ বারহাল ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের প্রদ্যুৎ দাস রতনের স্ত্রী। প্রদ্যুৎ দাস রতন পেশায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী। শাহগলী বাজারের তার জুয়েলারি দোকান রয়েছে।

এ ব্যাপারে চালিবন্দর শশ্মানঘাটে প্রদ্যুৎ দাস রতনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। কেবল বলেন, আমার কোন অভিযোগ নেই। কারো প্রতি সন্দেহও নেই।

শ্মশানঘাটে আসা বারহাল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিফতাউল হক বলেন, আমাদের এলাকায় এই পরিবারটির সুনাম রয়েছে। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আন্তিুকতা ছিল। ভালো পরিবার। তাদের কোন ঝগড়াঝাটি বা মনমালিন্যের কথাও কেউ কোনদিন শুনেনি।

বারহাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সালিকুর রহমান সিলেটটুডেকে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমি রাতেই তাদের বাড়িতে যাই। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। পরিবারের সদস্যরাও কোন অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানাননি। ফলে কেন দুজন মারা গেছেন তা বুঝা যাচ্ছে না।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চম্পা রানি দাস অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

লাশ উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রতন দাসের বড় ভাই কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও এক মেয়ে পাশের ঘরে থাকেন। ঘটনার সময় রতন দাস দোকানে ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে রতনের ঘরে গিয়ে চম্পা ও হৃদির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তখন ঘরের দরজা খোলা ছিল।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত