নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২৭

পুজোর ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের ঢল, হোটেল না পেয়ে মাজারে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

পর্যটকদের চাপে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে সিলেটে আসা অনেক পর্যটক পড়েছেন আবাসন সংকটে। হোটেল-রিসোর্টে রুম খালি না পেয়ে কেউ স্বজনের বাসায় উঠছেন, আবার কেউ থাকার জায়গা না পেয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আশ্রয় খুঁজছেন।

সিলেটে সাধারণত দুই ঈদের লম্বা ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয় এ খাতে, যার পরিমাণ শত কোটি টাকা। এবার তা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

সিলেট নগরের জিন্দাবাজারে অবস্থিত গোল্ডেন সিটি হোটেলের মহাব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি দত্ত বলেন, ‘কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা। ঈদের চেয়ে অনেক ভালো। সপ্তাহখানেক আগেই প্রায় সব হোটেলের রুম বুকিং হয়ে গেছে। অনেক দিন পর সিলেটের পর্যটনের আকাশে ঝলমলে সূর্য উঠেছে। ঈদের তুলনায় এবার বেশি ব্যবসা হবে আশা করছি।’

সিলেটের তিন তারকা হোটেল সিলেট রিজেন্সির ডিরেক্টর অব আইটি মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এবার পর্যটকদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া। অন্তত ১২ দিন আগেই সব রুম বুকড। আমাদের হোটেল আগামী চার দিন পর্যন্ত ফুল রিজার্ভড।’

পূজার ছুটিতে নেত্রকোনা থেকে সিলেটে ঘুরতে এসেছেন পীযূষ ঘোষ। বুসিলেট নগরের লাক্কাতুরা এলাকায় ‘মালনীছড়া চা-বাগান’ ঘুরতে আসেন পরিবার নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘এবার পূজার ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় পরিবার নিয়ে সিলেট ঘুরতে এসেছি। সকালে গিয়েছিলাম সাদাপাথর। সেখান থেকে ফেরার পথে ভাবলাম চা-বাগান ঘুরে যাই। দূর থেকে চা-বাগান যত চমৎকার, ভেতরে ঢুকলে আরো বেশি সুন্দর দেখায়।’

দেশের অন্যতম জলাবন ‘রাতারগুল’ ঘুরে মুগ্ধ রাজশাহীর এম এ তাহের। তিনি বললেন, ‘এত দিন মানুষের মুখে গল্প শুনে আর ইন্টারনেটে ছবি দেখে এক ধরনের ধারণা করেছিলাম। সরাসরি রাতারগুল আরো অনেক বেশি সুন্দর!’

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের নৌকার মাঝি তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাটে প্রায় দেড় শ ইঞ্জিনচালিত নৌকা আছে। পর্যটকরা এলে আমাদের আয় বাড়ে।’ তিনি বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে গত শুক্রবার থেকে হাজারো মানুষ সাদাপাথরে আসছে। এখন নৌকাপ্রতি আমরা পাঁচ থেকে সাতটি ট্রিপ দিতে পারছি। কেউ কেউ ৮-৯টিও দিচ্ছে। সব মিলিয়ে খুব ভালো যাচ্ছে।’

তাঁদের কথার মিল পাওয়া গেল ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সিইও শেখ রামিম আহমদের কথায়। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টের সব কয়টি রুম বুকড।’

জানা যায়, সিলেট জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে আসা অনেকেই থাকার জায়গা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি হোটেলগুলোতে নতুন করে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 এমন পরিস্থিতিতে অনেক পর্যটক রাত কাটানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। কেউ স্বজনের বাসায় উঠছেন, কেউ পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আবার হোটেলে কক্ষ না পেয়ে মাজার প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পর্যটন সাবকমিটির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার পূজায় পর্যটক সমাগম বেশি। তবে সেটা যে ঈদের সময়ের তুলনায় খুব বেশি, সে রকম নয়। কারণ সিলেটে উঁচু মানের থেকে সস্তা হোটেল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ হোটেল-মোটেল রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানের হোটেলগুলোতে জায়গা না থাকলেও সবগুলোর ক্ষেত্রে এ রকম নয়। তবে ঈদের পর পূজায় এই ঢল নিঃসন্দেহে পর্যটনের জন্য ইতিবাচক বার্তা।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা সবুজ তালুকদার বলেন, হোটেলে রুম খালি পাই নি। আম্বরখানা-জিন্দাবাজারের কয়েকটা হোটেলে ঘুরে থাকার ব্যবস্থা হয় নি। বাধ্য হয়ে মাজারে থাকছি। দেখি হোটেলে কোনো ব্যবস্থা হয় কীনা।

সিলেটের সবচেয়ে বেশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এবারও সেখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকেই আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত