নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ২২:২১

নানা আয়োজনে সিলেটে একুশে উদযাপন

অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যুদ্ধাপরাধিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও কার্যকরের দাবি এবং নাশকতার বিরুদ্ধে মানবিক দ্রোহের শপথে সিলেটেও পালিত হয়েছে এ দিনটি। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। সিলেটের কিছু আয়োজনের খবর:

শ্রুতি সিলেট

প্রতিবছরের বছরের মত এবারও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতি আয়োজন করেছিলো বর্ণমালার মিছিলের। অনুষ্ঠান মালায় ছিলো একুশের গান, কবিতা পাঠ ও বর্ণমালার মিছিল।

নগ্নপায়ে একুশের সুরে বর্ণমালার মিছিল শুরু হয়। সবার হাতে হাতে ছিল বর্ণমালা আর কন্ঠে ছিলো একুশের গান। সূর্যোদয়ের পরপরই গৌরবের বাংলা বর্ণমালা হতে নিয়ে নগ্ন পায়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করে শহীদবেদীতে। 

অনুষ্ঠানে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতির সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত। আরো বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিষ্টার আরশ আলী, আল আজাদ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, কবি সুমিতা দত্ত, শিশু সংগঠক তুহিন কান্তি ধর, শ্রুতি সিলেটের সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মুনির হেলাল, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশ গুপ্ত, নাট্য ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন রনি, কথাকলি সিলেটের শামসুল বাসিত শেরো সহ সিলেটের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

বন্ধু প্রতিদিন


অমর একুশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন’র পাঠক সংগঠন বন্ধু প্রতিদিন, সিলেট। শনিবার সকাল ১১টায় সংগঠনের সভাপতি পিংকু ধর ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ খানের নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি’র ডেপুটি রেজিস্ট্রার সুহেল আহমদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সিলেট ব্যুরো চীফ শাহ্ দিদার আলম নবেল, স্টাফ ফটো সাংবাদিক নাজমুল কবীর পাভেল, সাংবাদিক টুনু তালুকদার, শাহীন আহমদ, খলিলুর রহমান স্টালিন, রাশেদীন ফয়সাল, আনোয়ার হোসেন, ইমতিয়াজ রহমান ইনু, শাকিল জামান, শারমিন আক্তার, আব্দুর রহমান সানি, দিব্য জ্যোতি সী, সোহান, রুহান, শামা, মৌমি প্রমুখ।


সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাতফেরি


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে প্রভাতফেরি সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।
প্রভাতফেরিটি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু হয়ে সিলেট শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সুশান্ত কুমার দাশ, ব্যবসায় অনুষদের ডীন ড. রুহুল আমীন, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ঋষিকেশ ঘোষ, কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ময়ীজুর  রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, প্রক্টর জওহর লাল দাশ, রেজিষ্ট্রার নসরত আফজা চৌধুরী, জনসংযোগ কর্মর্কতা তারেক উদ্দিন তাজ প্রমুখ।


সিলেট জেলা যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্রীর্য় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা যুবলীগ।
উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ, মিসবাহ উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক আবু তাহের, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন, সদস্য মাসুক মিয়া আশিক, শেখ মোহাম্মদ আজাদ, ছাদিকুর রহমান ছাদিক, গোলাম মওলা চৌধুরী, শাহান আহমদ চৌধুরী, শাহীন আহমদ, লোকমান আহমদ, জহিরুল ইসলাম জুয়েল, মিতুল আহমদ প্রমুখ।


বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবসে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা মহানগরের প্রধান পৃষ্টপোষক অধ্যাপক আবু হোসেন চৌধুরী, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলার আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আহবায়ক ফয়ছল আহমদ, সদস্য সচিব ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রশিদুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আলম উজ্জল, মহানগরের আহবায়ক আলী আশফাক, সদস্য সচিব শাজাহান আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক পিংকু ধর, সদস্য রাশেদীন ফয়সাল, শাকিল জামান, রাহিব প্রমুখ।

শাবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোকসজ্জিত শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, সেমিনার, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।  
পরে সকাল ১০টায় মিনি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভায় ‘মান বাংলা ভাষা: সাম্প্রতিক বিতর্ক’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জফির উদ্দিন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, বাংলা ভাষা, স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কারণ ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই আমরা স্বাধীনতা এনেছি। মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের দিবসের শিক্ষা হচ্ছে আমরা সকল ভাষার প্রতি সম্মান দেখাব। বিশেষ করে এদেশের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষাকে আমরা কখনই অবজ্ঞা করব না।
উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর প্যানেল আলোচক হিসেবে গণিত বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রাশেদ তালুকদার বলেন, বাংলার ভাষার সাথে শুরু থেকেই একটি ঠান্ডা লড়াই চলছিল। বাংলাদেশের মানুষ এব্যাপারে চুপ ছিল। কিন্তু একুশে ফেব্র“য়ারি পাকিস্তানিরা আমাদের উপর সরাসরি আঘাত করে। ফলে এদেশের মানুষ বসে থাকেনি। বরং তার লড়াই নিজেদেরে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্যানেল আলোচক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল গনি বলেন, মান বাংলা ভাষার বিতর্ক মূলতঃ আদর্শিক যা
পাকিস্তান আমলে শুরু হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ  বাংলা ভাষার যে মূল ধারার সূচনা  করেছিলেন তার ভিত্তিতেই মান বাংলা ভাষা নির্ধারিত হতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নৃজ্ঞিান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনি পাল বলেন, পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবীরা উর্দুকে বাংলার উপর জোর করে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সংকীর্ণতা এদেশের মানুষ রুখে দেয়।
অপর প্যানেল আলোচক ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. হিমাদ্রী শেখর রায় বলেন, ভাষাকে কোন নির্দিষ্ট কাঠামোতে আবদ্ধ রাখা যায় না। কারণ ভাষা সবসময়ই বহমান। কাজেই মান ভাষা বলে কোন নির্দিষ্ট কাঠামোকে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। ভাষার কাঠামো স্বকীয়ভাবেই নির্ধারিত হবে।
মূল প্রবন্ধে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জফির উদ্দিন বলেন, প্রচলিত মান বাংলাটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষীর কাছে এতটাই স্বীকৃত যে তার কোন বিকল্প রূপের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ভাষাটি এতদিনে জাতিগত, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। সেটি সরিয়ে নেয়ার কারণে বরং জাতিগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য নষ্টই হবে।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম, প্রফেসর ড. মো. আখতারুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মো. আরিফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও সহকারী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হক, প্রভাষক মো. মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

সেমিনার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।  বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

 

শাবি’র KIN School


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে KIN School এর পক্ষ থেকে শাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় শনিবার সকাল ৮টায়।

পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় KIN School-এর শিক্ষার্থীবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন কওঘ’র উপদেষ্টা পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জায়েদা শারমীন স্বাতী ও KIN’র সকল সাধারণ সদস্য এবং শুভাকাঙ্খি।
অনুষ্ঠানের পর উপদেষ্টা শারমীন স্বাতী বলেন, ‘বাংলা আমাদের গর্ব, বাংলা আমাদের অহংকার। বাংলা ভাষা অর্জনের এই বিশেষ দিনে KIN School এর শিক্ষার্থীদের মত দেশের সকল স্কুলের ছাত্রছাত্রী অনুপ্রাণিত হবে একুশে ফেব্রুয়ারির মর্মে, এটাই মূল লক্ষ্য।
KIN এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান মুন্না বলেন, ‘ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভাষা। যা বিশ্বের বুকে আমাদের দিয়েছে এক অনন্য অবস্থান। সেই ভাষা সৈনিকদের প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম।’
সকাল ৯টায় মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় KIN স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এছাড়াও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিকেল ৪টায় কওঘ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী এবং ক্রীড়া জোট কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করে


 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত