০২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৫০
কুলাউড়ায় দেশীয় অস্ত্র ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন নারী সদস্যও আছেন।
গত ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো, রাজনগর উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের মৃত মজমিল মিয়ার পুত্র মোস্তফা মিয়া, একই উপজেলার দত্তগ্রামের মৃত দিরাই মালাকারের পুত্র সেফুল মালাকার ও ওই উপজেলার আনোয়ারা বেগম, কমলগঞ্জ উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের মতছির আলীর পুত্র ইসলাম আলী, একই উপজেলার কালীপুর গ্রামের মৃত উসমান খানের পুত্র সুমন আহমদ ওরফে সুলেমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উছাইল গ্রামের আইনউল্ল্যাহর পুত্র শহিদ উল্ল্যাহ, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইসলামপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর পুত্র শাকিল হাসান রুবেল।
২ এপ্রিল শনিবার দুপুরে কুলাউড়া থানা পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কুলাউড়া উপজেলায় সম্প্রতি কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকায় গত ১৪ মার্চ থানায় দায়েরকৃত মামলায় (নং ২২) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) জুনায়েদ আলম সরকারের তত্ত্বাবধায়নে এবং কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ. শামসুদ্দোহা পিপিএম ও ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে ২৭ মার্চ মোস্তফা মিয়াকে রাজনগর থেকে আটক করে।
২৯ মার্চ ভৈরব থানার চন্ডিবের দক্ষিণ পাড়ায় গানের আসর থেকে ইসলাম আলীকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ওই এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে সুমন আহমদ ওরফে সুলেমান ও শহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যমতে চট্টগ্রামের খুলশী থানার মতি ঝর্ণা বস্তি থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। শাকিলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের মুসলীমবাজ গাঙ্গেরপার এলাকা থেকে লুণ্ঠিত মোবাইলসেটসহ আনোয়ারা বেগমকে আটক করা হয়।
১ এপ্রিল ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত অগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্র সরবরাহকারী সেফুলকে আটক এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা (মৌলভীবাজার থ-১১-২৯২০) উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩টি মোবাইল, দু’টি রাম দা, একটি কাটারসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।অভিযানে কুলাউড়া থানার এস আই নুর হোসেন, এস আই জহিরুল ইসলাম ও এ এস আই মহিন উদ্দিন অংশ নেন। পুলিশ আরও জানায় আটককৃত ডাকাতদের মধ্যে শাকিল কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরায় পুলিশের ক্রস ফায়ারে নিহত ডাকাত সর্দার বাবুলের সহযোগী ছিলো। বাবুল নিহত হওয়ার পর শাকিল গা ঢাকা দিয়ে থাকত ও সময়মত এসে ডাকাতির জন্য অংশ গ্রহণ করত। মোস্তফা সিএনজি অটোরিকশা চালক হিসেবে ছদ্মবেশে থাকত এবং ডাকাতির জন্য ডাকাতদের সিএনজি অটোরিকশা করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোঃ. জুনায়েদ আলম সরকার ডাকাত আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতদের মূলহোতাদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আপনার মন্তব্য