২৪ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:২৩
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের একটি ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। দীর্ঘদিন থেকে ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুজাম্মিল আলীর ডাক বাংলাতে ভোট কেন্দ্র থাকলেও এবার ইউনিয়ন নির্বাচনে সেটিকে দূরবর্তী স্থানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তারা বলেন ভোট জালিয়াতির উদ্দেশ্যে একটি চক্র এই ষড়যন্ত্র করছে।
রবিবার দুপুরে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ভোটকেন্দ্র আগের স্থানে রাখার দাবি সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসকের পরামর্শ মতো তারা সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
তারা জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন মহলেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।অপ্রয়োজনীয়ভাবে কেন্দ্র স্থানান্তরের চেষ্টার মাধ্যমেই জালিয়াতি চক্র নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। কিন্ত এলাকাবাসী তা হতে দেবে না। প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণাধিন পাশ্ববর্তী স্কুলে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, কাছাকাছি স্কুল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হিসেবে স্থানীয় মুজাম্মিল আলীর বাংলো ব্যবহার হয়ে আসছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষি একটি মহল ব্যক্তি উদ্দেগ্যে স্থাপিত দূরবর্তী একটি বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের চেষ্টা চালায়। তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে ভুল তথ্য তুলে ধরে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভোটাররা জানান, ৩নং ওয়ার্ডে সরকারের বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ‘১৫০০’ বিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বড়ধিরারাই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপনের কাজ চলছে। অবশিষ্ট জায়গায় এলাকার শিক্ষানুরাগীদের নিজ উদ্দেগ্যে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন আছে। এটি এতোদিন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা মুজাম্মিল আলীর বাংলা থেকে ৪০০ ফুট দূরে অবস্থিত। প্রয়োজনে এ বিদ্যালয়কেই ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু একটি চক্র কৌশলে দূরবর্তী ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র নিতে চাইছে।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসের অধীনে আছে এবং তিনি এ ব্যাপারে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছেন। যদি ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয় তাহলে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। এছাড়াও যেখানে ভোট কেন্দ্র সেখানে থাকাটাই ভালো হবে বলে তিনি মনে করছেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ও বর্তমানে ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ এমদদাদুল হক বলেন, ভোট কেন্দ্রের ব্যাপারে এখনো কোন সিন্ধান্ত হয়নি। ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যাপারটি আগেকার এক অফিসারের কাছে কে বা কারা বলেছিলেন। ভোট কেন্দ্র স্থানান্থর করার প্রয়োজন হলে ঐ এলাকায় গিয়ে সকলের মতামত যাচাই করে স্থানান্তরের সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিনের সাথে এলাকাবাসী সাক্ষাৎ করলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। তার আশ্বাস ও পরামর্শে এলাকাবাসী রবিবার সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামের কাছে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। এ
সময় নির্বাচন কর্মকর্তা আগের জায়গাতেই ভোটকেন্দ্র থাকবে বলে তাদের আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মস্তাব আলী, কলমদর আলী, ছোয়াব আলী, মনোহর আলী, ছানু মিয়া, আব্দুর রজ্জাক, আব্দুল খালিক, এখলাছ আলী বাদল সহ দুশতাধিক ভোটার।
আপনার মন্তব্য