সিলেটটুডে রিপোর্ট

০৭ মার্চ, ২০১৫ ১৩:১৪

সিলেটে পাঞ্চজন্য’র দোল উৎসব

শুক্রবার ৬ মার্চ সিলেটের মিরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জীউর আখড়ায় পাঞ্চজন্য’র দোল উৎসব উদযাপিত হয়।

শুক্রবার ৬ মার্চ সিলেটের মিরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জীউর আখড়ায় পাঞ্চজন্য’র দোল উৎসব উদযাপিত হয়। রঙের উৎসব “হোলি উৎসব” কে বাংলায় দোল উৎসব বলা হয়। শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথিতে বাংলায় এই দোল উৎসব উদযাপিত হয়। এটি সার্বজনীন উৎসব হিসেবে প্রায় হাজার বছর প্রাচীনকাল থেকে এই উপমহাদেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। আবীর এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক রঙ ছিটিয়ে, একে অন্যকে রঙ লাগিয়ে মূলত পুষ্প-পল্লবে সজ্জিত বসন্ত ঋতুকে বরণ করে নেয়া হয়। তাই একে বসন্ত উৎসব বলা হয়।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতনে প্রতি বছর দিনব্যাপী এই দোল উৎসব উদযাপিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ঘরে ঘরে এবং মন্দিরে এই উৎসব উদযাপিত হয়। দোল উৎসবের রঙের খেলার পাশাপাশি রয়েছে বসন্তের গান ও দোলের বিশেষ ধরণের কীর্তন। এটি বাঙালী হিন্দুদের অতি প্রাচীন একটি সাংস্কৃতিক উৎসব।

পাঞ্চজন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণব্রতানন্দজী মহারাজ, রামকৃষ্ণ মিশন সিলেট, অধ্যাপক ডা.মৃগেণ কুমার দাশ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা.প্রদ্যোত কুমার ভট্টাচার্য, নিরঞ্জন দে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়ূক চৌধুরী। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন তুহিন দেব। সভাপতিত্ব করেন পাঞ্চজন্যের সভাপতি তাপস বন্ধু দাস। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন গীতবিতান বাংলাদেশ – এর শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, অনামিকা রায় ও লাবলী দেব।

সব শেষে পরিবেশিত হয় চা বাগানের শিল্পীদের পরিবেশনায় হোলির কাঠি নৃত্য। উপস্থিত সুধীমণ্ডলী ও দর্শক সকলেই তখন কাঠি নৃত্যের সাথে নাচ গান করেন এবং একে অন্যকে আবীর দিয়ে রাঙিয়ে দেন। তখন উৎসব অঙ্গনে এক অভূত পূর্ব আনন্দময় দৃশ্যের অবতারণা হয়। সব শেষে সমগ্র বিশ্বের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ ও সুখী সমৃদ্ধশালী শান্তিময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত