১৫ মার্চ, ২০১৫ ০১:৫১
লাশ উদ্ধার হওয়ার খবর শুনে শিশু সাঈদের স্বজনদের আহাজারি
বুধবার স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করা হয়েছিলো নগরীর রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ (৯) কে। অপহরণের পর শিশুর পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করা হয় শিশু সাঈদকে। শনিবার রাত সাড়ে ১০ টায় নগরীর ঝেরঝেরি পাড়ার সবুজ ৩৭ নম্বর বাসা থেকে শিশু সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্কুল ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে নগরীর বিমানবন্দর থানার এক পুলিশ কনস্টেবল, ওলামা লীগের এক নেতা ও পুলিশের এক সোর্সকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ওই কনস্টেবলের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় শিশু সাঈদের লাশ।
আটকৃত পুলিশ কনস্টেবল এবাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশুর লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এবাদুলের তথ্যের ভিত্তিতেই আটক করা হয় জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব ও গেদা নামের এক পুৃলিশের সোর্সকে। পুলিশ ধারনা করছে, খুন হওয়া শিশুর পিতার সাথে পুলিশ কনস্টেবল এবাদুলের পূর্ব বিরোধ থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।
জানা যায়, বুধবার স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করা হয় দর্জিবন্দ বসুন্দরা ৭৪ নং বাসার মতিন মিয়ার ছেলে আবু সাঈদকে। সাঈদ নগরীর রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। অপহরণের পর সাঈদের বাবা ও মামার কাছে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় বুধবারই কতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন অপহৃত সাঈদের মামা জয়নাল আবেদীন।
জয়নাল আবেদীন জানান, অপহরণের পর তাকে ও সাঈদের বাবাকে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। পাঁচ লাখ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা দুই লাখ টাকা দাবি করে। প্রথমে টাকা নিয়ে শাহজালাল (র.) দরগায় যেতে বলে অপহরণকারীরা। দরগায় যাওয়ার পর অপহরণকারীরা আবার ফোন করে সেখান থেকে এয়ারপোর্ট সড়কের বাইশটিলা এলাকায় যেতে বলে। বাইশটিলায় যাওয়ার পর অপহরণকারীরা ফোনেই পুলিশ ও র্যাবকে জানানো হয়েছে কেনো তা জানতে চায়। এ সময় তারা সাঈদকে খুন করার হুমকী দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, শুক্রবারও কনস্টেবল এবাদুলের সাথে আমার দেখা হয়। এসময় সে সাঈদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয় এবং তাকে উদ্ধারে সব ধরনের সহযোগীতা করার আশ্বাস দেয়।
কতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার ফয়াজ আহমদ ফয়েজ জানান, স্কুল ছাত্র সাঈদ অপহরণের অভিযোগে জিডি হওয়ার পর এ ব্যাপারে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে যে মোবাইল ফোন থেকে সাঈদের বাবা ও মামার কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে সেই মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিং করা হয়। ট্র্যাকিং করে দেখা যায় বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল এবাদুল এই ফোনটি ব্যবহার করছেন। শনিবার এবাদুলকে কতোয়ালি থানায় ডেকে আনা হয়।
ফয়েজ জানান, জিজ্ঞাসাবাদকালে প্রথমে কনস্টেবল এবাদুল শিশু অপহরণের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। একপর্যায়ে সে বিষয়টি স্বীকার করে এবং শিশু সাঈদকে খুন করা হয়েছে বলে জানায়। এবাদুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝেরঝেরি পাড়ার সবুজ ৩৭ নম্বর বাসার চিলেকোটা থেকে শিশু সাঈদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এক প্রবাসীর এই বাসার দোতলায় কনস্টেবল এবাদুল ভাড়া থাকেন বলে জানান এসআই ফয়েজ। পুলিশ লাশ উদ্ধারকালে এবাদুলের স্ত্রী সিনথিয়া নির্ঝর তানিয়াও বাসায় ছিলেন। তিনি নগরীর কুমারপাড়ার স্বপ্নঝাড়া বিউটি পার্লার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। এবাদুলের দেওয়া তথ্য মতে নগরীর বন্দরবাজার থেকে
পুলিশ জেলা ওলামা লীগ সাধারণ সম্পাদক রাকিব ও কোর্ট পয়েন্ট সংগ্ন মধুবন মার্কেটের সামনে থেকে পুলিশের সোর্স গেদাকে আটক করে।
এ ব্যাপারে কতোয়ালি থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এবাদুল, রাকিব ও গেদা এই তিনজন মিলেই শিশুটিকে অপরহরণ করে হত্যা করেছে। বুধবার অপহরণের পর বৃহস্পতিবার সকালের দিকে শিশু সাঈদকে হত্যা করা হয়।
সাঈদের পিতা অপহরণকারী কনস্টেবলকে চিনে ফেলার কারনে শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারনা করছেন ওসি।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, স্কুল ছাত্র হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার দায়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য