১৫ মার্চ, ২০১৫ ১৭:০৮
সিলেট নগরীর স্কুল ছাত্র আবু সাঈদ (৯) কে হত্যার দায় স্বীকার করেছে পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান। রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম আদালত-১ এর বিচারক শাহেদুল করিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল এবাদুর রহমান।
এদিকে এ ঘটনায় আবু সাঈেদর পিতা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়র করেছেন। রোববার সকাল সিলেট মহানগর পুলিশের কতোয়ালী মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন আবদুল মতিন। মামলায় বিমানবন্দর থানার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান, সিলেট জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব ও পুলিশের সোর্স গেদা মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
শনিবার রাতে কনস্টেবল এবাদুর রহমানের বাসা থেকে নগরীর শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আবু সাঈদের (৯) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরআগে গত বুধবার স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না পেয়ে খুন করা হয় শিশুটিকে।
শিশু সাঈদ অপহৃত হওয়ার পর তাঁর সন্ধানে নামে পুলিশ ও র্যাব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুক্তিপন দাবি করা মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে শনিবার দিতে আটক করে পুলিশ কনস্টবেল এবাদুরকে। এরপর নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় আবদুর রকিব ও গেদা মিয়াকে। এবাদুরের দেয়া তথ্য মতে তারই বাসার চিলেকোটা থেকে আটক উদ্ধার করা হয় শিশু সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ।
কোতয়ালী থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আটক করা ৩ জনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এবাদুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত আছে তা জানতে আমরা গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন করবো।
শিশু সাঈদের পিতা অপহরণকারী হিসেবে পুলিশ কনস্টেবলকে চিনে ফেলার কারনে সাঈদকে খুন করা হতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি।
আপনার মন্তব্য