নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মার্চ, ২০১৫ ০১:১৭

খুনের ব্যাপারে আদালতে যা বলেছিলো পুলিশ কনস্টেবল

'চারজন মিলে খুন করি শিশু সাঈদকে। হত্যার সময় আমি শিশুটির বুক চেপে ধরি।'

পুলিশ কনস্টেবল এবাদুরকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে

'চারজন মিলে খুন করি শিশু সাঈদকে। হত্যার সময় আমি শিশুটির বুক চেপে ধরি। গেদা গলায় রশি লাগান, রাকিব পা চেপে ধরে রাখেন এবং ওলামা লীগ নেতা আবদুর রকিব দরজায় পাহারা দেন। হত্যার পর ওলামা লীগ নেতা মাসুম বস্তার ব্যবস্থা করেন। এই বস্তায় ভরেই সাঈদের লাশ রাখা হয় বাসার চিলেকোটায়।'

নগরীর স্কুল ছাত্র অপহরণের পর হত্যা ঘটনার এমন রোমহর্ষক বর্ণনা দেন পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান। রোববার আদালতে এই খুনের ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবাদুর। সিলেট মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক জবানবন্দিটি গ্রহণ করেন।

স্বীকারোক্তিতে পুলিশ সদস্য এবাদুর বলেন, শিশুটির বাবা আব্দুল মতিনকে আগে থেকেই চিনতাম। অপহরণের পর বোঝা যায়, শিশুটির পিতার এতো টাকা দেওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই। তাছাড়া শিশু আবু সাঈদ আমাকে চিনে ফেলে। ছেড়ে দেওয়া হলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যেতে পারে ভেবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর একজন দায়িত্বশীল পুলিশের মতো তিনি (এবাদুর) শিশুটির মাকে পরামর্শ দেন হত্যার রহস্য জানতে পুলিশকে চাপ দিতে।

শনিবার রাতে এবাদুরের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আবু সাঈদ দ্বিতীয়। তার বড় বোন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

আদালতে এবাদুর রহমান জানিয়েছেন, এ হত্যার ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরো তিনজন জড়িত রয়েছেন। এছাড়া অপহরণে অজ্ঞাতনামা আরও একজন লোক সহায়তা করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম গোপন রাখা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এবাদুর আরো জানান, গেদা মিয়ার সঙ্গে দেড় মাস আগে পরিচয় হয় তার। তার মাধ্যমে পরিচয় হয় জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিবের সঙ্গে। রাকিব ও গেদা দু’জন প্রথমে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে আসেন। শিশুটিকে এবাদুর বাসায় রাখতে না চাইলেও অন্য দু’জন ভয়-ভীতি ও লোভ দেখান।

এবাদুর জকিগঞ্জ উপজেলার বাল্লা গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে। ঘটনার কিছুদিন আগে অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সে। তারও দু’টি সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ২ বছর ও অন্যজনের ১২ মাস। এছাড়া মামলার অপর আসামি ব্যাবের সোর্স গেদা মিয়ারও তিনটি সন্তান রয়েছে।

সিলেটের কতোয়ালি থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান- এ ঘটনায় শিশুর পিতা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে শনিবার (১৪ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন (নং-১৩(৩)১৫)। কনস্টেবল এবাদুর রহমান এবং অন্য তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
কনস্টেবল এবাদুর রহমান স্বেচ্ছায় নিজেকে জড়িয়ে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। সে মোতাবেক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বুধবার স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করা হয়েছিল নগরীর রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে (৯)। অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় শনিবার কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল এবাদুর, জেলা ওলামা লীগ নেতা আবদুর রকিব ও র‌্যাবের সোর্স গেদাকে আটক করে। তাদের দেখানো মতে শিশু সাঈদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় ময়না তদন্ত শেষে আবু সাঈদের মরদেহ দাফনের জন্য সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আসর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানান শিশুটির মামা জয়নাল আবেদীন।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত