দেবব্রত চৌধুরী লিটন

০১ জুলাই, ২০১৬ ০০:৩২

ফুটপাত নয়, যেনো ‘ফুটবাজার’

পুরো নগরীতে এখন আর ফুটপাত বলে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। সব ফুটপাত দখল করে ঘরে ওঠেছে ভাসমান দোকান। যেনো পুরোটাই ফুটবাজার। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ফুটপাত দখলের প্রতিযোগীতা। রমজানের মধ্যভাগ শেষে সব ফুটপাতই চলে গেছে হকারদের দখলে।

ফুটপাত ছাপিয়ে নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটও এখনো হকারদের দখলে। একে তো ঈদমৌসুমে রাস্তাঘাটে যানবাহন ও পথচারীদের অতিরিক্ত চাপ তারউপর হকারদের দৌরাত্মে দিন গড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীতে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। আর পথচারীদের হাঁটার তো কোনো উপায় নেই।

ঈদ উপলক্ষে নগরীর সব সড়কে এখন বসেছে পোশাক আর জুতোর দোকান। চৌহাট্টা থেকে বন্দর বাজার সড়ক পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাতে বসেছে দোকান। দোকানগুলোতে লাগানো হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, জ্বলছে একাধিক অবৈধ বৈদ্যুতিক বাতি। যাদের ফুটপাতে স্থান হয়নি তারা হাতে নিয়ে কাপড় বিক্রি করছেন।  অনেকে আবার সামিয়ানা টাঙ্গিয়েও পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের বিক্রেতারা গানে গানে ক্রেতাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। জিন্দাবাজার-বন্দর সড়কে গিয়ে দেখা গেল ফুটপাত দখলকারী বিক্রেতারা একদাম একশো, দেড়শো, দুইশো, আড়াইশো ইত্যাদি বলে বলে পোশাক বিক্রি করতে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা ভিড় করেছেন ফুটপাত এসব দোকানগুলোতে। ফলে ফুটপাত ছাপিয়ে সড়ক পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে ভাসমান ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। এতে যানজট আরো দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছে।

সরজমিন দেখা গেছে- নগরীর সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, বন্দর বাজার,  কোর্ট পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার হয়ে আম্বরখানা পয়েন্ট পর্যন্ত এবং কোর্ট পয়েন্ট থেকে পেপার পয়েন্ট হয়ে সুবহানীঘাট পয়েন্ট, জেল রোড সড়ক পর্যন্ত ফুটপাত হকারদের দখলে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা হয় বন্দরবাজার এলাকার ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী জমির মিয়ার সাথে। জমির মিয়া জানান, প্রতিদিন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ আসেন তার দোকানে স্বল্প দামে কাপড় কেনার জন্য। ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে কাপড় কিনতে পেরেই তারা খুশি।

ফুটপাত দখল করে ব্যবসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মার্কেট পাবো কোথায়? কতবার শুনলাম আমাদের দোকান করে দেয়া হবে। কিন্তু পরে আমাদের ভাগ্যে আর কোন দোকান জুটেনি। স্বল্প টাকার ব্যবসা করি। এরমধ্যে যদি এতো টাকা ভাড়া দিয়ে দোকানে বসে ব্যবসা করতে হয় তাহলে আমাদের পুঁজি বলতে আর কিছুই থাকবে না। তাছাড়া গরিব মানুষ যে স্বল্প টাকায় কাপড় কিনতে চান, আমরা মার্কেটে চলে গেলে তারা আর সেটা পাবেন না। তখন দুই-পক্ষেরই ক্ষতি হবে।

পুলিশ,  সিটি করপোরশেন ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন বলে জানান একাধিক ভাসমান ব্যবসায়ী।

ফুটপাত দখল করে নগরজুড়ে ব্যবসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মুশফিকুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেন, ফুটপাত দখল মুক্ত করা আসলে আমাদের দায়িত্ব নয়। এ ব্যাপারে আলাদা ডিভিশন আছে। তারা এই বিষয়টা দেখবেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাস্তা যানজট মুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দেয়া। এই বিষয়ে আমাদের কাজ আমরা যথেষ্ট দক্ষতার সাথে পালন করছি। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বন্দর-জিন্দাবাজার সড়ক অনেকটাই সচল আছে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত