০১ জুলাই, ২০১৬ ০১:৩৬
রাত প্রায় ১২ টা বাজে, কিন্তু নগরীর জেলরোড পয়েন্টে থেকে জিন্দাবাজার পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট। অনেকক্ষণ রিকসায় অপেক্ষা করে অনেকেই নেমে পায়ে হেটে রওয়ানা দিলেন নয়াসড়কের দিকে। আবার কেউ কেউ পরিবার সদলবলে ছুটলেন জিন্দাবাজারের দিকেই। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীতে দেখা যায় এ দৃশ্য।
নয়াসড়কের দিকে স্ত্রীকে নিয়ে হাটা দেওয়া ইমরান আহমদ বলেন, দিনে অফিস থাকে বলে রাতে কেনাকাটার জন্য সময় বের করে নিয়েছি। তিনি জানালেন, ইফতারের পর স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে নয়াসড়কে এসেছি। আরো কিছু কেনাকাটার জন্য জিন্দাবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু রাস্তায় যে জ্যাম লেগেছে, তাতে মনে হয় আর যাওয়া সম্ভব হবে না।
সিলেটে দীর্ঘদিন ধরেই যেকোনো উৎসব-পার্বণে রাতের বেলা বিপণি বিতানগুলো বেশি জমজমাট থাকে; এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। প্রতিদিন ইফতার শেষে ক্রেতারা ভিড় করছেন নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ার বিভিন্ন অভিজাত ফ্যাশন হাউজের শো-রুমে। এছাড়া নগরীর জিন্দাবাজার, বারুতখানা ও লামাবাজারের বিভিন্ন বিপণি বিতান ও শো-রুমে ক্রেতারা ভিড় করছেন।
দিনে কর্মব্যস্ততার কারণে ব্যস্ত থাকেন সবাই। ফলে রাত হলেই বেরিয়ে পড়েন কেনাকাটায়। এতে করে গত কিছুদিন ধরে দিনের চেয়ে রাতেই জমজমাট নগরীর রাস্তাঘাট ও বিপণি বিতান।
নগরীর লামাবাজারের অন্যতম ফ্যাশন হাউজ ষড়ঋতুর কর্ণধার নগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ হুমায়ুন কবির জুয়েল ও নাজমা পারভিন দম্পতি। হুমায়ুন কবির জুয়েল বলেন, দিনে কম রাতে বেশি- এটাই আসলে সিলেটের রীতি।
ঈদের ব্যবসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আস্তে আস্তে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। আমাদের আসলে নির্ধারিত একটি ক্রেতা শ্রেণি আছে, যারা ইতিমধ্যে আসতে শুরু করেছেন। তাদের শো-রুমের সব পোষাকই দেশি বলে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জুয়েল। আর নাজমা পারভিন বলেন, সিলেটের মানুষ রাতের বেলা কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এজন্য ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখেন।
সরজমিনে নগরীর নয়াসড়কে আড়ং, মাহা, শী, কমলাভান্ডার, শৈল্পিক, ফেইরী মাম্মী, নারী, রমণী, কাশীশ, এডিশন এবং কুমারপাড়ায় দেশি দশ, ইজি, ওয়েস্টটেক্স, বেবিশপসহ বিভিন্ন শো-রুমে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
নগরীর নয়াসড়কে অন্যতম ফ্যাশন হাউজ মাহার সত্ত্বাধিকারী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, এবার শুরু থেকেই ঈদের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, ব্যবসায়ও ভালো হচ্ছে। তাদের শো-রুমে নিত্যনতুন পোষাকের স্টকও বেশি বলে জানালেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের সময় বাড়তি মুনাফার কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত যে হারে লাভ করি, ঈদের বা অন্য যেকোনো সময় একই হারে মুনাফা ধরেই পোষাক বিক্রি করা হয়।
আপনার মন্তব্য