০৫ জুলাই, ২০১৬ ০১:০৮
“আপা ইখানো কিতা মাগনা মেন্দি ফিন্দানি অয়নি”। হ্যাঁ । এ কথা শুনে ছোট্ট লিমার চোখে মুখে দেখা গেল আনন্দের ঝিলিক। দেরী না করে বসে গেল মেহেদী দিয়ে হাত রাঙাতে। সে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকাল একাডেমীর পাশের একটি বাসার গৃহকর্মী। হাতে মেহেদী পড়ানো দেখে লোভ সামলাতে না পেরে সে ছুটে এসেছে এখানে।
হবিগঞ্জে তারুণ্য সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে শিশুদের জন্য মেহেদী উৎসব ও ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দেখা গেল এই দৃশ্যটি ।
" শিশুদের একটু খানি হাসি অনেক খানি দামি" এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার বিকালে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে তারুণ্য সোসাইটি প্রায় অর্ধ শতাধিক ছিন্নমূল পথ শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরন ও মেহেদী উৎসবের আয়োজন করে। ধনী গরীব সকল ভেদাভেদ ভুলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মেহেদীতে হাত রাঙ্গানোর ব্যস্থতা ছিল দেখার মতো। শিশুদের মধ্যে কারো রুক্ষ কারো নরম তুলতুলে হাতে সমান তালে মেহেদীর আলপনায় ভরিয়ে দেয় তারুণ্য সোসাইটির সদস্যরা।
মেহেদী পড়তে আসা খাদিজা ও সুলতানা জানায়, আগে কোনো ঈদে তারা মেহেদী পড়েনি। ঈদের নতুন কাপড়ের সাথে হাতে মেহেদী পড়তে পেরে অনেক খুশি।
মেয়ে শিশুদের পাশাপাশি ছেলে শিশুরাও খুশি মনে মেহেদীর রঙে রাঙ্গিয়েছে তাদের হাত। শহরের নোয়াবাদ এলাকার হৃদয় ও কাশেম মিয়া মেহেদী লাগানোর সময় একটু লজ্জা পাচ্ছিল। কিন্তু মেহেদি লাগানোর পর তার খুশি কে দেখে।
আরিফিন আবদাল রিয়াদের সভাপতিত্বে ও আবিদুর রহমান রাকিব এর সঞ্চালনায় মেহেদী উৎসব ও ঈদ বস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃন্দাবন সরকারী কলেজের অধ্যাপক ইলিয়াস বখত চৌধুরী জালাল, সৈয়দ মুফাজ্জেল সাদাত মুক্তা, চিত্রপরিচালক মোক্তাদির ইবনে সালাম, টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল চৌধুরী, হাসবি সাঈদ চৌধুরী, মনসুর আহমেদ ফাগুন ।
ঈদ বস্ত্র বিতরন ও মেহেদী উৎসব এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল তারুণ্য সোসাইটির একঝাঁক তরুণ-তরুণী। অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করেন সংগঠনের কার্য নির্বাহী সদস্য ডায়না খান,গৌরি রানী রায়,শাকিলা ববি, শেখ ওসমান গনি রুমি,ফয়সল আহমেদ, মোস্তফা কামাল রাজ, সাইফ সাইফুল, রুবেল হোসেন নিলয়,তাসমিন শিবা, রায়হান রহমান, তাসমিন ইতি,সায়েম চৌধুরী, সৌরভ আহমেদ, দেবাশীষ রায়, নাদিয়া তাসনিম,দেবাশীষ রয়,ইমরান আহমেদ তুর্জ, সোহান আহমেদ,হাবিব দুর্জয়, শুভ আহমেদ, আনিকা আনতারা ইতু, জয় বনিক, এনেট, সৈয়দা মাহমুদা জ্যোতি,নিশাত চৌঃ, রিফাত আখি,নাদিয়া,আইজেন নিহান শাহনুর শাহ্,শাহ মোঃ রাসেল, জুনায়েদ আহমেদ, মাহবুবর হাসান, আরিফ আহমেদ, মাজাহারুল ইইসলাম ফারহান প্রমুখ।
তারুণ্য সোসাইটির উপদেষ্টা ও প্রধান সমন্বয়কারী শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন জানান, এই সমাজটা আমাদের। এই সমাজ পরিবর্তনে তরুণ্য এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরা জাতীর ভবিষ্যৎ। আমরা শিশুদের মাঝে কোন ভেদাভেদ চাই না। সকলেই সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোর অব্যাবস্থাপনার কারনে পথশিশুর উদ্ভব। আমরা আশার করি তরুণ সমাজ এগিয়ে এসে ব্যস্থতার মাঝে থেকেও তাঁদের জন্য কিছু করার মানসিক অবস্থা তৈরি করতে পেরেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে কোন একদিন এই তারুণ্যের হাত ধরেই বদলে যাবে এই সমাজ কাঠামো। রমজানের শুরুতে হবিগঞ্জ তারুণ্য সোসাইটি উদ্যোগে হত দরিদ্র পরিবারে পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আজ সকল শিশুদের নিয়ে কাজ করতে পেরে ভাল লাগছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যৎ সকলের সহযোগীতায় এধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
আপনার মন্তব্য