১১ জুলাই, ২০১৬ ২১:২৪
"আমার ছোট ভাই সুলতান আহমদ সনিকে মারতে এসে নিজের হাতে থাকা ছোরার আঘাতে মারা গেছেন আব্দুল্লাহ অন্তর। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে একটি চক্র।" এমন অভিযোগ করেছেন মিরাবাজার ছন্দানীটুলাস্থ উদ্দীপন ২৪/৮ নং বাসার বাসিন্দা সুলতান আহমদ সনির বড় বোন আলেয়া আজাদ।
সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১০ জুলাই রবিবার পাঠানটুলার পার্কভিউ আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ১০৯ নম্বর বাসায় যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য তার ছোট ভাই সুলতান আহমদ সনি দায়ী নয়। সুলতান আহমদ সনি শান্তিপ্রিয় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সনি একজন ব্যবসায়ী। সে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও রোটারি ক্লাব অব সিলেট প্রিমিয়ার এর ২০১৬/২০১৭ সনের ডিরেক্টর। এছাড়া সে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সিলেট ইউনিটের আজীবন সদস্য ও ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সনির নিজস্ব মালিকানাধীন পাঠানটুলাস্থ পার্কভিউ আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ১০৯ নম্বর বাসায় তিনটি পরিবারের সাথে সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ অন্তর পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতো। কিছু দিন পূর্বে আব্দুল্লাহ তার স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়। বাসার মালিক আমার ছোট ভাই সনি আব্দুল্লাহকে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বললে আব্দুল্লাহ অন্তর বাসার একটি কক্ষ জোরপূর্বক নিজের দখলে রাখে। প্রতিরাতে বাসার ভেতর মদ্যপানসহ অবাঞ্চিত নারীদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকতো সে। এতে বাসার ভেতরের অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন।
সনি বারবার আব্দুল্লাহকে এসব অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করার পাশাপাশি বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বললে উল্টো সনিকে হত্যার হুমকি দেয় আব্দুল্লাহ অন্তর। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বেলা ১২ টা ৪৫ মিনিটে সুলতান আহমদ সনি বাসায় উপস্থিত হয়ে তার নিজের মুঠোফোন থেকে আব্দুল্লাহকে ফোন দিয়ে বলে বাসায় আসার জন্য।
আব্দুল্লাহ মুঠোফোনে কথা বলার সময় সুলতান আহমদ সনিকে হত্যার হুমকি দেয় এবং সনিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আব্দুল্লাহর দেয়া হুমকিসহ সম্পূর্ণ কথা সুলতান আহমদ সনি তার মোবাইলে রেকর্ড করেন। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ১ টা থেকে দেড়টার ভেতর আব্দুল্লাহ তার সাথে করে আরো ৪/৫ জন লোক নিয়ে বাসার ভেতর ঢুকে সুলতান আহমদ সনির উপর হামলা চালান।
এ সময় পার্কভিউ আবাসিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাব্বির ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনিসহ এলাকার আরো অনেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। আব্দুল্লাহ দেশীয় ছোরা দিয়ে সনিকে কোপ দিতে চাইলে আব্দুল্লাহর সাথে থাকা লোকজন আব্দুল্লাহকে আটকানোর চেষ্ঠা করেন। উত্তেজিত আব্দুল্লাহ ছোরা না ফেলে সনির দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে নিজের ছোরার আঘাত গিয়ে লাগে আব্দুল্লাহর গলায়। আব্দুল্লাহ অন্তর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তখন তারই সাথে আসা লোকজন তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তার ভাই সনিকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমুলক তথ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে একটি চক্র। আব্দুল্লাহর ঘটনাকে পুঁজি করে গ্রুপিং রাজনীতির যে নীল নকশা তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান সনির বোন। ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সনির আরেক বোন ফাতেমা জোহরা।
আপনার মন্তব্য