১৪ জুলাই, ২০১৬ ১৯:৫০
প্রায় দুই মাস পর হবিগঞ্জের মাধবপুর বৈকুন্ঠপুর চা বাগানে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এই বাগানে উৎপাদন বন্ধ ছিলো।
বুধবার থেকে শ্রমিকরা যোগ দিয়েছে কাজে। কারখানায় ও বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে গত ১৭ মে থেকে বন্ধ হওয়া তলব(মজুরী) এখনও বন্ধ রয়েছে। গত ১০ জুলাই শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক অধিদপ্তরের কার্য্যালয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি , মালিক পক্ষ ও শ্রম উপ পরিচালকের নেতৃত্বে ত্রি পক্ষীয় এক বৈঠকে বাগানের মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয় ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের দেনা পাওনা পরিশোধ করা হবে। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা ১৩ জলাই কাজে যোগ দেয়। ১৪ জুলাই থেকে যথারিতি কারখানায় চা উৎপাদন শুরু হয়েছে।
বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, গত ১৭ মে থেকে হঠাত করে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের তলব বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিদ্যূৎ বিল বকেয়া থাকায় বিচ্ছিন্ন করা হয় কারখানা ও বাসাবাড়ির সংযোগ। এ অবস্থায় চা বাগানের নিয়মিত ৪ শ শ্রমিক সহ প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা অবণনীয় দূর্ভোগের মধ্যে পড়ে। দেখা দেয় খাদ্যভাব। বন্ধ হয়ে পড়ে চিকিৎসাসেবা। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ। এ সমস্যা উত্তোরনের জন্য শ্রমিকরা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন সহ নানা কর্মর্সূচি পালন করে। সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা, শ্রম অধিদপ্তরের লোক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একাধিকবার বৈঠকে বসেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।
প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর শ্রীমঙ্গল ত্রি পক্ষীয় বৈঠকে বাগানের চেয়ারম্যান পিকে মুখার্জী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ,লষ্করপুর ভ্যালির শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও বৈকন্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ বৈঠকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা ১৩ জুলাই কাজে যোগদেয়।
বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা খোকন বুন্যার্জি জানান, আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে চা বাগানটি বন্ধ হয়ে পরে। প্রায় ২ হাজার চা বাগান বাসিন্দা মারাত্বক অসুবিধার মধ্যে পড়বে।
এ ব্যাপারে বাগানের চেয়ারম্যান পিকে মুখার্জী জানান, ২০১৩ সালের হরতাল, অবরোধের সময় বৈকন্ঠপুর চা বাগানের উৎপাদিত চা পাতা বিক্রি করা যায়নি। তখন বাগানটি বিরাট আর্থিক লোকসানের মধ্যে পড়ে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে কৃষি ব্যাংক ঋন বন্ধ রয়েছে। এসব আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধার দেনা করে শ্রমিকদের রেশন তলব ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করা হয়।
এ বাগানটি চালু রাখার স্বার্থে সরকারী আর্থিক প্রনোদনা ও ব্যাংক ঋন মঞ্জুরী অতিব জরুরী।
আপনার মন্তব্য