দেবকল্যাণ ধর বাপন

১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৮

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সত্ত্বেও চালু হচ্ছে না বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সিলেটে এক জনসভায় শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমদে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করার জন্য ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণার পর প্রায় ৬ মাস কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি শিশু হাসপাতালের।

লোকবল ও যন্ত্রপাতিসঙ্কট এবং প্রস্তুত সম্পন্ন না হওয়ায় শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করে তৎকালীন সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শামসুদ্দিন আহমদসহ তার কয়েকজন সহকর্মীকে। শহীদ এই চিকিৎসকের স্মরণে নগরীর চৌহাট্টার সিলেট সদর হাসপাতাল নামে পরিচিত হাসপাতালটির নামকরণ করা হয় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। এ হাসপাতালটিকেই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে রুপান্তর করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশু হাসপাতালের জন্য যে লোকবল ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার চাহিদা অনুযায়ী চাহিদাপত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখনো লোকবল ও যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়নি।'' তিনি বলেন, ''আশা করছি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ  শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে”।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১শ’ শয্যাবিশিষ্ঠ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে গত ২১ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানের এক  সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালটিতে শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করার জন্য ঘোষণা দেন।

চলতি বছরের ৫ জুন অর্থ মন্ত্রনালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য মহাপরিদর্শক দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরবর্তী এক সাংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জন্য টাকা, ডাক্তার, নার্স সহ প্রয়োজন মতো জনবল সব কিছু যতদ্রুত সম্ভব বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেন আশ্বস্ত করেন।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রচেষ্টায় সিলেটে শিশুদের উন্নত চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালটিকে শিশু হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব আ.ফ.ম রুহুল হক হাসপাতালটি পরির্দশন করেন।

এই হাসপাতালকে ২শ’ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখন পর্যন্ত শিশু হাসপাতালরূপে কার্যক্রম শুরু হয় নি। এজন্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শেষ করেছে।

সম্প্রতি হাসপাতালটি ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটি শিশু রোগীদের চিকিৎসার জন্য অবকাঠামোগত ভাবে প্রস্তুত করা হলেও শিশু রোগীদের চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক সহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না ।

এ ব্যপারে কথা হয় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অধীক্ষক ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মিঞার সাথে। তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটা বিষেশায়িত হাসপাতাল করতে হলে এটির সাথে অনেক কিছু জড়িত থাকে, যেমন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি। এছাড়াও এখানে যেসব ডাক্তার আর নার্স রয়েছেন তাদের দিকও বিবেচনা করতে হচ্ছে। তাদেরকে একীভূত করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আমরা আমাদের দিক থেকে সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি। এখন শুধু মন্ত্রণালয়ের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে আমরা আশাবাদি যে খুব শীঘ্রই শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে”।

উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় গড়ে তোলা হয় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান সৈনিক হাসপাতাল। তখন শুধু সেনা সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। ১৯৪৮ সালে এ প্রতিষ্ঠানকে মেডিক্যাল স্কুলে উন্নীত করা হয়। ১৪ বছরের ব্যবধানে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠানটি রূপান্তরিত হয় সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

১৯৭৮ সালে আরো বড় পরিসরে নগরীর কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয় সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল এর স্থাপনা। এ সময়ে হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয় হাসপাতালের জমি। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সাল থেকে তা ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল এবং ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত