১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৬
সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ১শ’ ৬৬ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। এর উল্লেখযোগ্য একটি পরিমাণ পাওনা আছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের কাছে।
সিলেটে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারী তালিকা ভুক্ত যেসব মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে, সে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে পিডিবির বিল বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকারও অধিক। বছরের পর বছর ধরে বকেয়া পড়ে রয়েছে এসব বিল। বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট জোনের বিতরণ অঞ্চলের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কাজ হচ্ছে না। সাধারণত দুই মাসের বিল বকেয়া হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা। কিন্তু এমনও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দীর্ঘ ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়সমূহের অধিকাংশ কর্তৃপক্ষের ধারনা ধর্মীয় উপাসনালয়ের কোন বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, একটি ভ্রান্ত ধারণার উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছেন না। এতে সেবা প্রদান কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত মসজিদ-মন্দিরের ১শ’ ইউনিট পর্যন্ত বিল মওকুফ করে দেওয়া হয়, যদি সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা সচল থাকে।
এ ব্যাপারে পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত’র সাথে কথা হলে তিনি সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরক ডটকম-কে বলেন,“বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে সক্রিয় হলে এত টাকা খেলাপি বিল হত না। সম্ভবত এরশাদ সরকারের আমলে একবার মসজিদ-মন্দিরের বিল মওকুফ করা হয়েছিল,এরপর থেকে অনেকদিন মসজিদ-মন্দির বিল পরিশোধ করেনি। আমি সিলেট মহানগরের প্রায় বড় বড় সকল মন্দিরে খবর নিয়ে দেখেছি, উনারা প্রতিমাসে ঠিক সময়মতো বিল পরিশোধ করছেন। কেউ যদি এমন ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বসে থাকেন তাহলে তাঁদের ধারণা ভুল। তবে ঐ সময়ের বকেয়া থাকলে হয়তো থাকতে পারে। পিডিবির উচিৎ গণবিজ্ঞপ্তির মধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে জনসচেনতা তৈরি করা।”
এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কার্যালয় সিলেটের পরিচালক ফরিদউদ্দিন আহমেদ সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরক ডটকমকে বলেন, “বছরশেষে ১শ’ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল ধর্ম মন্ত্রনালয় সরাসরি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে প্রদান করেন। আর যদি কেউ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল না দিয়ে থাকেন, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব তা প্রদান করা উচিৎ। আর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তালিকা করে নোটিশ দিয়ে বকেয়া বিল আদায় করতে হবে।”
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ অঞ্চল সিলেট জোনের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, এই বিপুল পরিমান বকেয়া বিল পরিশোধ হলে সরবরাহ, বিতরণ ও গ্রাহক পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে আরো বেশি সংখ্যক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। সেইসাথে লোডশেডিংও বন্ধ হবে বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য