২২ মার্চ, ২০১৫ ২০:০৭
আগামী জুনে চালু হচ্ছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নির্মানাধীন শাহজালাল সারকারখানা। এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। ইতোমধ্যে কারখানার নাইট্রোজেন ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম এই সারকারখানাটির ৯৫ শতাংশ কাজও শেষ হয়ে গেছে। বাকী ৫ শতাংশের কাজ চলছে।
সারকারখানাটির নির্মান কাজের সাথে সংশ্লিস্টরা জানান, কারখানার অবকাঠামোগ সব কাজই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যন্ত্রপাতিও কারখানায় স্থাপন করা হয়ে গেছে। এখন এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চলছে। গ্যাস সংযোগের কাজ চালছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর জন্য শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছিলো গত মহাজোট সরকার। এর একটি হলো পদ্মাসেতু নির্মান ও অপরটি শাহজালাল সারকারখানা নির্মান। ২০১২ সালের ২৪ জুন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল সারকারখানা নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি’ স্থাপনের জন্য ২০১২ বছরের শুরুতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। এরআগে চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণাধীন শাহজালাল সারকারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে দু’ দেশের মধ্যে ঢাকায় একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনা সরকার এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ (তিন হাজার নয়শত ছিয়াশি কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা প্রদান করে। ঋণের বার্ষিক সুদের হার দুই শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট এক হাজার চারশত তেইশ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দিচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সারকারখানাটি চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হলেও এর প্রযুক্তিগত কারিগরী সহায়তা দিচ্ছে জাপান, আমেরিকা এবং নেদারল্যান্ড।
সারকারখানাটি চালু হলে প্রতিদিন ১৭৬০ মেট্রিক টন করে বছরে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার ৮শ’ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হবে এবং প্রতিদিন ১ হাজার মেট্রিক টন হিসাবে বছরে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টন অ্যামনিয়া উৎপাদিত হবে।
শাহজালাল সারকারখানার প্রকল্প সচিব কামরুজ্জামান বলেন, প্রকল্প শুরুর সময় ২০১৫ সালের আগস্টে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হওয়ার লক্ষ্য ছিলো। প্রকল্পের মেয়াদ ছিলো ৩৮ মাস। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। জুনে প্রধানমন্ত্রী এ সারকারখানার উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারকারখানা নাইট্রোজেন ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ প্রকল্প এলাকায় নাইট্রোজেন ইউনিটের উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
এ ব্যাপারে শিল্প সচিব মোশাররফ হোসাইন ভুঁইয়া বলেন, এই কারখানায় প্লান্ট রয়েছে ১৯টি। প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে । এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ১ থেকে দেড় মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন চালু করা হবে । সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এই কারখানা উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরো বলেন, পুরনো ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার কর্মচারীদের মধ্যে ৮০ভাগ কর্মচারীদের নতুন সারকারখানায় নেওয়া হয়েছে। বাকি ২০ ভাগকে যাছাই বাছাই করে নেওয়া হবে।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সারকারখানার নির্মাণ কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে। কারখানাটি চালু হলে ৬ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে দেশের সারের চাহিদা পূরণের পাশপাশি বিদেশ থেকে সার আমদানির প্রয়োজন হবে না।
আপনার মন্তব্য