১৮ জুলাই, ২০১৬ ২২:১৭
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মোফাজ্জল হোসেন(১৭) নামের এক মাদ্রাসার ছাত্র তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে সে ধর্মীয় উগ্রবাদি সংগঠনে যোগ দিয়েছে।
নিখোঁজের বিষয়ে চলতি বছরের ১৪ জুলাই তাহিরপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে। জিডি নং ৪৯৯। নিখোঁজ ব্যক্তি তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের লাকমা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সিরাজ মিয়া ও মোছাম্মৎ হাজেরা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে।
পুলিশ ও নিখোঁজ মোফাজ্জল হোসেনের পিতা সিরাজ মিয়া জানান, মোফাজ্জল হোসেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আমতলী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। ২০১৪ সালের আনুমানিক জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে সে কোরবানি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরে ১৫ দিন ঈদের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে আমতলী মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায়। বাড়ি থেকে যাওয়ার পরপরই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার আর কোনও খোঁজ করেনি।
সম্প্রতি নিখোঁজের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা জানতে পেরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। মোফাজ্জল হোসেনর পিতা মো. সিরাজ মিয়া জানান, ছোটকাল থেকে মোফাজ্জল নামাজ কালাম পড়তো। সে জন্য প্রথমে তাকে নিজ গ্রামের লাকমা মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। পরে একই উপজেলার বাঁশতলা মাদ্রাসা ও বাদাঘাট মাদ্রাসায় ভর্তি করে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। তিনি আরও বলেন তার আট ছেলে মেয়ের মধ্যে মোফাজ্জল দ্বিতীয়।
অন্যান্য ছেলেমেয়েরা মাদ্রাসা ও স্কুলে লেখাপড়া করে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। অভাব আর অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটে তাদের।
মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে খরচ কম হওয়ায় এবং ধর্মীয় বিষয়ে পড়ানো হয় বিধায় তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয় বলে জানান বাবা।
মোফাজ্জল হোসেনের মা হাজেরা খাতুন জানান, তিন বছর আগে কোরবানি ঈদের কয়েক দিন পর মোফাজ্জল কে তার বাবা সিরাজ মিয়া ফটিকছড়ি আমতলী মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য ট্যাকেরঘাট এলাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী ভাড়াটে মোটরসাইকেলে তুলে দেন। এই ছিলো ছেলের সঙ্গে মায়ের শেষ দেখা। তারপর আর কোনও খোঁজ খবর নেই। এর কয়েকমাস পর সিরাজ মিয়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ওই মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার ছেলে সেখানে যায়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার ছেলের কোনও হদিস দিতে পারেননি। পরে খোঁজাখোঁজি বাদ দিয়ে দেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. খসরুল আলম জানান, তিনি নিখোঁজের বিষয়টি জানতে না। এখন জেনেছেন মোফাজ্জল হোসেন কোনও উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, পুলিশ নিখোঁজ মোফাজ্জল হোসেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
ইতোমধ্যে তার পরিবার ও মোফাজ্জলের ব্যক্তিগত ইতিহাস সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, মোফাজ্জলের ছবি সংগ্রহের জন্য তার বাড়ির লোকজনদের বলা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি বেতারবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ জানান, মাদ্রাসা ছাত্র মোফাজ্জল প্রায় তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সঙ্গে পরিবারের লোকজেনর কোনও ধরনের যোগাযোগ নেই। পুলিশ সন্দেহ করছে সে কোনও ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িয়ে পড়ছে। এজন্য তার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিস্তর তদন্ত করে তার ছবি ও নিখোঁজের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া তার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য পুলিশ হেড কোয়াটারে পাঠানো হবে।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন
আপনার মন্তব্য