২২ মার্চ, ২০১৫ ২০:৪৬
র্যাবের কথিত সোর্স গেদা
সিলেটে স্কুল ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় নিজের সংশিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে র্যাবের সোর্স আতাউর রহমান গেদা মিয়া। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে রোববার সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক সাহেদুল করিমের আদালতে গেদা মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে সে স্কুল ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের আদ্যোপান্ত বর্ণনা দিয়ে বলে, অর্থলোভে পড়েই তারা আবু সাঈদকে অপহরণ করি। এ অপহরণের পরিকল্পনা সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে বসে করা হয়। অপহরণকারীদের চিনে ফেলায় সাঈদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া জানিয়ে গেদা বলে, হত্যাকান্ডের সময় আমি সাঈদকে গলাটিপে হত্যা করি।
এছাড়া অপহরণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হত্যাকান্ড ও লাশ গুমের পরিকল্পনাসহ সহযোগিদের কথাও জানায় সে।
গত বৃহস্পতিবার সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম জহিরুল গণি চৌধুরী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে বিচারক সাহেদুল করিম গেদা মিয়ার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সূত্র জানায়, প্রথম দফা রিমান্ডে র্যাবের কথিত সোর্স গেদা মিয়া বিভিন্নভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে পুলিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজী হয়।
এর আগে আলোচিত এ হত্যাকান্ডে গ্রেফতার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল এবাদুল ও জেলা ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে এবাদুল ও রাকিব জানায়, শিশু সাঈদকে অপহরণ করে মোটর সাইকেলে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় রায়নগরস্থ গেদার বাসার পাশের একটি বাসায়। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সাঈদকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমারপাড়া ঝর্ণারপাড়স্থ এবাদুলের বাসায়।
মুক্তিপন নিয়ে শিশু আবু সাঈদকে ছেড়ে দেওয়ার প্রাথমিক চিন্তা ভাবনা থাকলেও অপহরনকারীদের চিনে ফেলায় শ্বাসরুদ্ধ করে সাঈদকে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে মেডিসিন দিয়ে বস্তায় ভরে কনস্টেবল এবাদুলের বাসায় রাখা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, পুলিশ কনস্টেবল এবাদুল ও ওলামালীগ নেতা রকিবের পর নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে গেদা মিয়া আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর কুমারপাড়া ঝর্ণারপাড়ে পুলিশ কনস্টেবল এবাদুলের বাসা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রায়নগর দর্জিবন্দের মতিন মিয়ার ছেলে ও হাজী শাহমীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র আবু সাঈদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত ১১ মার্চ রাতে অপহৃত হয়েছিল শিশু সাঈদ। এ সময় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে অপহরণকারীরা। পরবর্তীতে অপহরণের ঘটনা পুলিশকে জানানোয় তাকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল এবাদুল, জেলা ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী আবদুর রকিব ও র্যাবের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আপনার মন্তব্য