নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই, ২০১৬ ২১:৩২

প্রেসক্লাবের জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধনে শহীদ মিনার ভাঙচুর মামলার আসামী!

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ এবং শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছে সিলেট প্রেসক্লাব। দুপুরে নগরীর সুবিদবাজারে প্রেসক্লাব ভবনের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। যিনি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাঙচুর মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী।

২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ আন্দোলনবিরোধী হেফাজতের একটি মিছিল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাঙচুর করা হয়। পরে ভাচুর মামলায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ। যাতে কয়েস লোদীর নামও ছিলো। এই মামলার আসামী হিসেবে জেলও খাটেন বিএনপি দলীয় এই সিটি কাউন্সিলর। পরে কয়েস লোদীকে অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশীট দেয় পুলিশ।

শহীদ মিনার ভাচুর মামলার আসামী উপস্থিত থাকায় সাংবাদিকদের কয়েকজন প্রেসক্লাবের মানববন্ধনে অংশ নেন নি বলে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত জঙ্গিবাদবিরোধী মানববন্ধনেও অংশ নেন কয়েস লোদী।
 
শহীদ মিনার ভাচুর মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বর্তমানে বিচার শুরুর অপেক্ষায় আছে।

এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মফুর আলী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি জঙ্গি মিছিল থেকে শহীদ মিনার ভাচুরের দায়ে যিনি অভিযুক্ত, তার জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনৈতিক।

সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বাপ্পাঘোষ চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধনে শহীদ মিনার ভাচুর মামলার আসামী অংশ নেওয়ায় আমিসহ কয়েকজন সাংবাদিক এই কর্মসূচীতে অংশ নেই নি।

তবে মানববন্ধনের আয়োজক সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু বলেন, কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকা মানেই তিনি অপরাধী নন। আদালতে অপরাধ প্রমাণ হ্ওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা কাউকে অপরাধী বলতে পারি না।

তিনি বলেন, আজকের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য সব কাউন্সিলরদের দা্ওয়াত দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর হিসেবেই কয়েস লোদীকেও দাওয়াত দেওয়া হয়। তিনি উপস্থিত হলেও অন্য কোনো কাউন্সিলর মানববন্ধনে আসেননি।

আগামীতে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন বলেও জানান ইকু।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, মানববন্ধনের কোনো দাওয়াত আমি পাইনি।

২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রেসক্লাবের মানববন্ধনের তথ্য জানিয়ে আমার মোবাইল ফোনে একটি ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে কোনো দাওয়াত দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জ্যেষ্ট সাংবাদিক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নুর বলেন, প্রেসক্লাব আয়োজিত এ ধরণের কর্মসূচী সাংবাদিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত