মিজানুর রহমান সুহেল, নবীগঞ্জ

২১ জুলাই, ২০১৬ ১০:৪০

বিবিয়ানার গ্যাস ভাগ্যে জোটেনি নবীগঞ্জ বাসীর

দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা বাংলাদেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করে আসছে। কিন্তু বিবিয়ানা যে এলাকায়, সেই নবীগঞ্জের ১৩টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা নেই। নিজেদের এই দুর্ভাগ্যের জন্য এলাকাবাসী দায়ী করছেন রাজনীতিবিদদের। উল্লেখ্য, এই এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৯২ সালে। প্রথমে অক্সিডেন্টাল ও পরে ১৯৯৮ সালে নাইকোর মালিকানায় যায় এই গ্যাসক্ষেত্র।

এরপর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আগুন লেগে কয়েক মিলিয়ন টিসিএফ গ্যাস ও বন্যপ্রাণী মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলে নাইকো কাজ বন্ধ করে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমেরিকান কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক কাজ শুরু করে ৪ নম্বর কূপ থেকে ২০১২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত ১১টি খননকূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু নবীগঞ্জবাসীর গ্যাস বঞ্চনা অবসানের কোনো লক্ষণ আজও দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় পৌরসভা এলাকায় ৪০০-৫০০ ঘর ছাড়া পুরো উপজেলার সব ইউনিয়ন গ্যাস-সুবিধা বঞ্চিত। অতীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো। নবীগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের খামখেয়ালিপনার কারণেই স্থানীয় মানুষ এরূপ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। উপজেলায় বিদ্যুৎ-সুবিধাও সর্বোচ্চ মাত্র ২০ ভাগ এলাকায় রয়েছে। অথচ এই এলাকায় একটা কুইক রেন্টাল কেন্দ্রও বসানো হয়েছে।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিবিয়ানার সাউথ প্যাডে ৭ নম্বর কূপ উদ্বোধন করার সময় নবীগঞ্জ উপজেলাবাসীকে গ্যাস-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি বেশি দূর এগোয়নি। ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূপ ও পারকুলে বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন, এই এলাকায় গ্যাস দেওয়ার ব্যাপারে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বলে দেব। কিন্তু সেই ওয়াদাও পূরণ হয়নি। নবীগঞ্জবাসীর বৃহত্তর এলাকা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল, যা এলাকাবাসীকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত