২১ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৪১
বিয়ানীবাজার উপজেলার পঞ্চখন্ড রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে আসা দুই যুবককে নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বুধবার ভোর ৬ টায় এই দুই অপরিচিত যুবক আশ্রমের ফটকে এসে পুরোহিতকে খুঁজতে থাকে। তবে ফটকে প্রহরীরা বাঁধা দিলে তারা ফিরে যায়।
এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেন হিন্দু নেতারা। পুলিশ রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পরিদর্শন করেছে।
জানা যায়, বুধবার ভোরে শর্ট প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত দুই যুবক বিয়ানীবাজার উপজেলার পঞ্চখণ্ড রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় আশ্রমের প্রহরী দম্পতি লনী মালাকার ও প্রলীতা মালাকার তাদের বাধা দেন। যুবকরা তাদের কাছে সেবায়েতের অবস্থান জানতে চাইলে, ঘুমিয়ে আছেন বলে জানান প্রহরীদ্বয়। এসময় যুবকরা সেবায়েতকে ডেকে দেয়ার কথা বলে। তবে এতে রাজী হননি দুই প্রহরী। এরপর কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে তারা চলে যায়।
এ খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবের আহমদসহ একদল পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওই সেবাশ্রমের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তীর স্ত্রী মঞ্জুরাণী চক্রবর্তী বলেন, ঠাকুর ঘরে পুজো দেয়ার জন্য তিনি (পুরোহিত) ঘুম থেকে ওঠে প্রস্তুত হয়ে যেই বাইরে বের হবেন ওই সময় দুই যুবকের সাথে প্রহরিদের বাগবিতণ্ডা শুনি। এসময় তাকে বের হতে দেইনি। তবে এ দুই যুবক আবারো আসবে বলে হুমকি প্রদান করে গেছে বলে জানান মঞ্জুরানী।
বিয়ানীবাজার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক অরুণাভ পাল মোহন বলেন, সকালে খবর পেয়েই আমরা সবাই ছুটে আসি। বিষয়টি আমাদের জন্য খুব উদ্বেগের। তিনি বলেন, এখানে এসে অপরিচিত যুবকরা শর্ট প্যান্ট পরে সেবায়েতকে খুঁজবে। এরা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি বিরাজ কান্তি দে বলেন, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা পরিষদের বৈঠক শেষে প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। তাছাড়া আমরাও নিজে থেকে রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবের আহমদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যুবকদের সন্ধান করা হচ্ছে। তিনি আতংকিত না হওয়ার জন্য স্থানীয়দের পরামর্শ দিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য