নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ জুলাই, ২০১৬ ১৮:৩৬

নেতার মুক্তিতে বিলম্ব, কারারক্ষীদের উপর হামলা চালালো ছাত্রলীগ

কারারক্ষী-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে আহত ২০, অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে কারারক্ষী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জন সাংবাদিকও রয়েছেন। সংঘর্ষকালে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে  এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তাকে সংবর্ধনা জানাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উপস্থিত হন শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

বিকেল ৫ টার মধ্যে কারাগারের ভেতর থেকে নিপু বেরিয়ে না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মূল ফটক ডিঙিয়ে কারাগারের সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে চান। এসময় কারাগারের ফটকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা তাদের বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এসময় তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান ও কারারক্ষীদের সাথে হাতাহাতিতে লেগে যান। ছাত্রলীগ নেতারা কারারক্ষীদের ব্যারাকেও হামলা চালান বলে অভিযোগ কারা কর্মকর্তাদের।

এসময় কারাগারের ঘণ্টা (পাগলা ঘণ্টা) বাজানো হলে কারারক্ষীরা ফটকে এসে জড়ো হন। তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে চাইলে দু'পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে দুই পক্ষে প্রায় ২০ জন আহত হন। যাদের মধ্যে ৫ জন সাংবাদিক। ভাঙচুর করা হয় অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল।

কারারক্ষীরাই সাংবাদিকদের উপর হামলা করেন ও মোটর সাইকেলগুলো ভাঙচুর করেন বলে জানান একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হয়। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সিলেটের ডিআইজি (প্রিজন) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিলেট কারাগারে মুফতি হান্নানসহ অনেক শীর্ষ জঙ্গিরা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশের কারাগারেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা আছে। এ অবস্থায় নিপুর সমর্থকরা কারারক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে ফটক ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে। কারারক্ষীরা বাধা দিলে তাদের উপর হামলা চালায়। এ অবস্থায় কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআইজি বলেন, কারারক্ষীদের আঘাতে কোনো সাংবাদিক আহত হয়ে থাকলে এ জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সাংবাদিকদের উপর হামলার জন্য কোনো কারারক্ষী দায়ী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদ বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। কোনো মামলাও এখন পর্যন্ত হয়নি।

এদিকে, সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অনেকটা চুপিসারে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান হিরণ মাহমুদ নিপু।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত