দেবকল্যাণ ধর বাপন

২২ জুলাই, ২০১৬ ১২:৫৫

বিদ্যুৎ বিল দেয় না নগরীর বিপনী বিতানগুলোও

সিলেটে সরকারী প্রতিষ্ঠানের মতো বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও বকেয়া পড়ে আছে কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল। নগরীর অভিজান বিপনী বিতানগুলো বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে না। সিলেটের বেসরকারীখাতে শীর্ষ বিল খেলাপির তালিকায় বিপনী বিতানের সংখ্যাই সর্বাধিক।

বিলাসবহুল বিপণী বিতান ছাড়াও বিল খেলাপির তালিকা থেকে বাদ যায়নি সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা সহ চা বাগানের মতো বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানও।    

সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে বেসরকারি বিল খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকার শীর্ষে রয়েছে- সিলেট প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ (৭ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা), কানিজ প্লাজা (৩ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি (২৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা), সিলেট সিটি সেন্টার (৯ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা),বাংলাদেশ টেলিকম কর্পোরেশন লিমিটেড,সিলেট (৭ লক্ষ ৯ হাজার টাকা),কাকলী শপিং সিটি (৩৭ লক্ষ টাকা),আল হামরা শপিং সিটি (২৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা),গোল্ডেন টাওয়ার (৬ লক্ষ ৯৫ হাজার,অপটিমাম রিয়েল এস্টেট (১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা)সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির ব্যবস্থাপক মলয় ভুষণ দত্ত বলেন, আমরা প্রতি মাসে যে বিল আসে তা সময়মত প্রদান করি। পিডিবির কাছে যে বিলটি বাকি আছে, তা ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ের, তখন মার্কেট খোলা রাখতে না পারায় বেশ কিছু বিদ্যুৎ বিল জমে যায়, যা কিস্তিতে ধীরে ধীরে আমরা প্রদান করছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ের কোন বিল আমরা বাকি রাখছি না।

সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব মতে সরকারি খাতের মতো বেসরকারি খাতেও কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পরে আছে। মে ২০১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী সিলেট জোনে বিদ্যুৎ বিল বাবদ পিডিবির বকেয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ১শ’ ৬৬ কোটি ১৫ লক্ষ টাকারও অধিক। সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এ বকেয়ার বেশিরভাগই হচ্ছে ব্যক্তি ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে। আর এ তালিকার অগ্রভাগে রয়েছে নগরীর বিলাসবহুল শপিং মল।

বিদ্যুৎ বিল বাবদ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি খাতে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের  পাওনা ১শ’ ৩৬ কোটি ১৬ লক্ষ টাকারও বেশি। এ বকেয়া  বিদ্যুৎ বিল আদায়ে  বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট জোনের বিতরণ অঞ্চলের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কাজ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ অঞ্চল সিলেট জোনের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,  “বেসরকারি খাতে যেসব বিল বকেয়া পরে আছে তাদেরকে বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও বিল পরিশোধ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের দুই মাসের বিল বকেয়া পরে থাকলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণবসত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না”।  

এ বিপুল পরিমান বকেয়া বিল পরিশোধ হলে সরবরাহ,বিতরণ ও গ্রাহক পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে আরো বেশি সংখ্যক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। সেইসাথে লোডশেডিংও বন্ধ হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে আবাসিক সংযোগ দেওয়া গ্রাহক মহল বলছেন অন্য কথা, তারা বলছেন পিডিবি নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকদের হাতে।

নগরীর লালাদিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা সুবল সিংহ সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার ক’দিন পরপর ইউনিট কয়েক পয়সা করে বাড়ায় কিন্তু বিদ্যুৎ বিল বাড়ে ২/৩ গুণ। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব। আমার ধারণা পিডিবি জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নিজেদের ঘাটতি পুষিয়ে নিচ্ছে”।

বিলাসবহুল বিপণী বিতান ছাড়াও বিল খেলাপির তালিকা থেকে বাদ যায়নি সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা সহ চা বাগানের মতো বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানও।   

আপনার মন্তব্য

আলোচিত