সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ জুলাই, ২০১৬ ২১:৪০

‘এক বছরের মধ্যে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা হবে’

আগামী এক বছরের মধ্যে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

রোববার (২৪ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের টি হ্যাভেন রিসোর্টে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা ও সমস্যার নানা দিক নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি।

মৌলবীবাজার জেলার কমলগঞ্জের শমসেরনগর বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরেই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে এই বিমানবন্তর চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন বিমান মন্ত্রী। অবশেষে রোববার জানালেন একবছরের মধ্যেই এ বিমানবন্দর চালু করা হবে।
 
জানা যায়- ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অভিযান চালানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার মৌলভীবাজারের শমশেরনগর চা বাগানের ৬২২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলে। ব্রিটিশ আমলে ওই বিমানবন্দরটি ‘দিলজান্দ বন্দর’ নামেই পরিচিত ছিল। বিমানবন্দরটিতে ৬ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ৭৫ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর বিমানবন্দরটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর’।

প্রশস্ত রানওয়ে, বিশাল পরিসর, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা এ বিমানবন্দরে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত বিমান ওঠানামা করতো। পরবর্তীতে বিমানবন্দরটিতে যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৭০ সালে পিআইএ’র অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শমশেরনগর বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণকালে রানওয়ের কাছে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। সেসময় বিমানবন্দরের ভেতরে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এর বেশকিছু অবকাঠামো পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।

১৯৭৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ইউনিট খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে এখানে বিমান বাহিনীর একটি পরীক্ষণ স্কুল স্থাপন করে চালু করা হয় বার্ষিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তখন থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের অবহেলিত ও পতিত ভূমি ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল কৃষি খামার। এখানে বিমানবাহিনীর রিক্রুটমেন্ট অফিসও খোলা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে রানওয়ের অল্প কিছু অংশ।

বিমানবন্দরটিতে প্রতিবছর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জাতীয় ক্যাডেট কোর বিমান শাখার সদস্যদের অগ্নিনির্বাপণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, রাডার নিরাপত্তা, ফায়ারিংসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দর থেকে এ্যারোবেঙ্গল এয়ার সার্ভিসের ফ্লাইট চালু করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে এ ফ্লাইট সার্ভিসটি যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। পরে এ প্রক্রিয়াও একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।

রোববার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ পর্যটন বিষয়ক এ আলোচনা সভায় পর্যটন মন্ত্রী আরো বলেন, শ্রীমঙ্গলকে পর্যটনের রাজধানী করে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আবশ্যিকভাবে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। পর্যটনের এলাকাগুলোকে ট্যুরিস্ট প্রোডাক্ট হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

মেনন বলেন, বেশি লাভ করতে আমরা বনায়ন ধ্বংস করে ফেলছি, জীববৈচিত্র ধ্বংস করে ফেলেছি। আজ জাফলং, লালাখাল ধ্বংসের দিকে। আমরাই এগুলোকে ধ্বংস করে ফেলছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত