নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ মার্চ, ২০১৫ ১৮:৪৩

উপেক্ষিত সিলেট : চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হচ্ছে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতের উদ্যোগ নেই

খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী-স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন থেকেই আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিলো এটি। অথচ সিলেটকে স্বপ্ন দেখিয়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে চট্টগ্রাম রাজশাহীতে।

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতে সোমবার মন্ত্রীসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে সরকার। এরফলে নিকট ভবিষ্যতে সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চালুর সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেলো। আবারো উপেক্ষিত হলো সিলেট।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৫’ এবং ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৫’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে দেশে চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠের সংখ্যা হবে তিনটি। ১৯৯৮ সালে ইন্সটিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ কে (পিজি হাসপাতাল) বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর যতবার ওসমানী হাসপাতালে গেছেন প্রতিবারই ‌'অচীরেই' এই মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতের আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। এমনকি এই বছরের শুরুর দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অনুষ্ঠানে আসলে তাকে এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নীতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা জানানো হয়। এসময় নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি্রুতি বাস্তবায়নে এই মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে।

তবে আজকের মন্ত্রীসভার বৈঠকে উপেক্ষিত থেকে যায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ আঞ্চলিক মেডিকেল কলেজগুলো এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

দেশে বর্তমানে ২৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে। আরও পাঁচটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে ক্রমবর্ধমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির চাহিদা মেটাতে পারছে না বলেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

“আইন দুটি একই রকম। আইন দুটি নিয়ে মন্ত্রিসভা কিছু অনুশাসন ও নির্দেশনা দিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ তাদের স্বতন্ত্র ধারায় থাকবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হবে আলাদা প্রতিষ্ঠান। কলেজগুলো এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।”

মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান হবে। ব্যাচেলর (এমবিবিএস কোর্স) ডিগ্রি থাকবে কলেজে। তবে নার্সিং এর ব্যচেলর ডিগ্রি দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেও একই নিয়ম চলছে।

নতুন দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাসপাতাল থাকবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আইনে এ বিষয়ে বলা নেই। তবে হাসপাতাল থাকতে হবে। আপাতত হাসপাতাল স্থাপন না করেও চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা যাবে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হাসপাতাল হবে।”

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত