নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মার্চ, ২০১৫ ২০:৪১

অপবাদ সইতে না পেরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

সিলট নগরীর উপকণ্ঠের মেজরটিলায় নিজ বাসা থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপবাদ সইতে না পেরে ব্যবসায়ী নরুল ইসলাম (৪৭) হার্ট এটাকে মারা যান বলে ধারনা করছে পুলিশ। নুরল ইসলাম দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারের মৃত আবদুল বারীর পুত্র।

মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে শাহপরান থানা পুলিশের একটি দল তার লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত নুরুল ইসলাম মেজরটিলাস্থ শ্রাবণী ১২ নম্বর যুক্তরাজ্য প্রবাসী জমসেদ মিয়ার বাসার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাশের ভাড়াটে ছালিক মিয়া, তার স্ত্রী ও বোনকে আটক করেছে।

বাসার তত্ত্বাবধায়ক সামাদ আহমদ জানান- প্রায় একবছর ধরে স্ত্রী পরিচয়ে এক মহিলাকে নিয়ে ওই বাসার একটি ঘরে বসবাস করতেন নূরুল ইসলাম। বাসার আরেক ভাড়াটে ছালিক মিয়ার ঘর থেকে দুইদিন আগে কিছু টাকা চুরি হয়। চোর ধরতে মঙ্গলবার ছালিক মিয়া এক কবিরাজকে নিয়ে আসেন। কবিরাজ তার সহযোগীর মাধ্যমে ‘বাটি চালান’ দেন। সহযোগী ‘বাটি চালান’র মাধ্যমে ছালিক মিয়াকে চোর সনাক্ত করে তার গলা চেপে ধরে। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে তার বুকের ওপর ওঠে বসে। পরে কবিরাজ তার সহযোগীকে নিবৃত্ত করে নূরুল ইসলামকে চুরি যাওয়া টাকা ফেরত দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নূরুল ইসলাম।

নিহত নূরুল ইসলামের ভাই কয়েস আহমদ জানান, কামালবাজারে তার ভাইয়ের ফার্ণিচার ব্যবসা রয়েছে। তার এক ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। কামালবাজারের গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী পারভিন বেগম ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। মেজরটিলায় তার কোন স্ত্রী আছে এটা পরিবারের কেউ জানেন না।

নূরুল ইসলামের স্ত্রী দাবিদার রুফিয়া বেগম জানান, ‘আমার স্বামীকে চোর সাব্যস্ত করার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে আমি মাছিমপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় টাকা আনতে যাই। বাসায় ফিরে দেখি নূরুল ইসলাম অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহপরাণ থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চুরির অপবাদ সইতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করে নূরুল ইসলাম মারা গেছেন। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছালিক মিয়া, তার স্ত্রী ও বোনকে থানায় আনা হয়েছে।

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত