০৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:০৯
সিলেট মহানগরীর ভিআইপি সড়কের রিকাবীবাজার পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টামুখী রাস্তার মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত কালভার্টের (মাদারকেয়ার ক্লিনিক সংলগ্ন) দৈর্ঘ্য ৪৪-৪৫ ফুট এবং প্রশস্ত প্রায় ১২ ফুট। ১নং ওয়ার্ডের দরগাহ’র পশ্চিমের ছড়া এবং ২ নং ওয়ার্ডের জেলা স্টেডিয়াম ঘেষে প্রবাহমান মুঙলীছড়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে এই কালভার্টটি। অথচ মাঝারি সাইজের এই এক কালভার্টের নিচ থেকেই ১১ টন ময়লা-আবর্জনা-বর্জ্য অপসারণ করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন!
সোমবার (১ আগস্ট) থেকে মুঙলীছড়া পরিষ্কার করতে অভিযানে নামে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) পরিচ্ছন্নতা কাজ পরিদর্শন করতে যান সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব। এসময় পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ কালভার্টের নিচ থেকে বের করে নিয়ে আসা ময়লা আবর্জনা সম্পর্কে এনামুল হাবীবকে বিস্তারিত অবহিত করেন। কালভার্টের পাশেই তখন কালভার্টের নিচ থেকে ময়লা-আবর্জনা বের করে তা পার্শ্ববর্তী জায়গায় জড়ো করে রাখা ছিল।
এত বিপুল পরিমাণ ময়লা আবর্জনা কালভার্টের নিচে জমা ছিল জেনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুততার সাথে ময়লা আবর্জনা সিটি কর্পোরেশনের ট্রাকযোগে সরানোর নির্দেশনা দেন। এসময় এনামুল হাবীব জানান, ‘মুঙলী ছড়াসহ সিলেট মহানগরীর অন্যান্য ছড়া ও খাল যাতে পরিষ্কার থাকে সেজন্য সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। মুঙলীছড়াকে খনন করে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে শিগগিরই এস্কাভেটর নামিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।’
রোববার (৭ আগস্ট) থেকে মহানগরীর আরও পাঁচটি স্পটে একযোগে ছড়া ও ড্রেন পরিচ্ছন্ন করা হবে জানিয়ে এনামুল হাবীব বলেন, ‘শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করলে এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। এজন্য মহানগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। ছড়া-খাল ও ড্রেনে অবাধে পলিথিন, হোটেল-রেস্তোরা, বাসা-বাড়ীর আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।’
কালভার্টের নিচের আবর্জনা প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সী অফিসার মো: হানিফুর রহমান জানান, ‘কালভার্টের নিচ দিয়ে পানি, গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় সাইজের পাইপ থাকার কারণে এবং ছড়া ও খালের পানিতে অনবরত আবর্জনা বিশেষ করে পলিথিন ফেলার কারণে কালভার্টের নিচে ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ জমে যায়। এতে করে পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে চরম বিঘ্ন ঘটে।’
মোঃ হানিফুর রহমান আরো বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা একাধিকবার কালভার্টের নিচ পরিষ্কার করলেও কিছুদিন পর পুনরায় একইরকম আবর্জনার স্তুপ জমে যায়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন অনেকটা অসহায়।’ এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তিনি মহানগরবাসীকে পলিথিন জাতীয় ময়লা আবর্জনা এবং হোটেল-রেস্তোরা, বাসা-বাড়ীর আর্বজনা ছড়া ও ড্রেনে ফেলা বন্ধ করার আহবান জানান।
এসময় সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী বলেন, ‘মহানগরবাসী যাতে ছড়া ও খালে ময়লা আবর্জনা না ফেলে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্থানে ফেলেন সেজন্য আমরা বারবার আহবান জানাচ্ছি। ছড়া ও খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ময়লা আবর্জনা। সৈয়দ তৌফিকুল হাদী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে ছড়া ও খালের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে তিনি জনগণকে ছড়া ও খাল-ড্রেনে ময়লা আবর্জনা না ফেলার উদাত্ত আহবান জানান।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর, কনজারভেন্সী ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল হক, সুপারভাইজার জালাল আহমদ, মনির আহমদসহ আরও অনেকে।
আপনার মন্তব্য