০৯ আগস্ট, ২০১৬ ১৮:০৩
সিলেটের খাদিম বিসিক শিল্প নগরীতে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বনফুলের দুই কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে ২ জন খুনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যান্য আসামীরাও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
জবানবন্দিতে দুই আসামী শিপন ও দুলাল জানায়, বনফুলের নারী কর্মী সুমি আসামী শিপনের খালাতো বোন। সুমির সাথে নিহতের বন্ধু বনফুলের আরেক কর্মী রাসেল আহমেদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সুমি শিপনের সাথেও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সুমির কাছ থেকে রাসেলকে সরিয়ে দিতে বন্ধুদের সাথে নিয়ে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে শিপন ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌণে ৭ টায় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়া খাদিম বিসিক শিল্পনগরীতে আসে। রাসেলকে ঘটনাস্থলে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাসেলকে রক্ষার জন্য রাসেলের বন্ধু বনফুলের ২ কর্মী রাজু আহমদ ও তাপু মিয়া এগিয়ে গেলে শিপন, উজ্জল, দুলাল, নজরুল, ইমন ও পলাতক আসামী শাকিল তাদের হাতে থাকা দা, ছোরা ও পাইপ দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রাজু ও তাপু মিয়াকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। ভাগ্য ক্রমে রাসেল বেঁচে যায়।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহন শেষে আসামী শিপন ও দুলালকে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন এবং আসামী উজ্জল এবং নজরুলকে ০৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। সোমবার আসামী ইমনকে কোর্টে হাজির করা হয় এবং পুলিশের পক্ষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে আসামীদের জবানবন্দীর ভিত্তিতে শাহপরান থানা পুলিশ আসামীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তারা ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ধারালো দা ও দুটি পাইপ উদ্ধার করেন।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সী সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আপনার মন্তব্য