০১ এপ্রিল, ২০১৫ ২০:৩০
আন্তর্জাতিক বিমাবন্দর হিসেবে উন্নীত হওয়ার ১৭ বছর পর সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করলো বিদেশী উড়োজাহাজ। বুধবার ৫ টায় ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ সিলেটে এসে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ওসমানী থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটো চালু হলো। যা সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি।
জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় ওসমানী বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাই'র ৮০০ সিরিজের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি ১৬২ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে টায় আবারো যাত্রী নিয়ে দুবাই ফিরে যায় উড়োজাহাজটি।
সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু ও বিদেশী উড়োজাহাজের অবতরণের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পুরণ হলো। এরফলে প্রবাসী সিলেটবাসীর দূর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ১৭ বছর আগে, ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পায় সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর। তবে রানওয়ের অপ্রতুলতা এবং রিফুয়েলিং স্টেশন না থাকার কারণে এত দিন ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কোনো উড়োজাহাজ অবতরণ বা উড্ডয়ন করেনি। প্রবাসীবহুল সিলেট থেকে ছিলো না সরাসরি কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়। আর বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় রিফুয়েলিং স্টেশন। এ দুই সমস্যার সমাধান হওয়ায় আজ প্রথমবারের মতো বিদেশী উড়োজাহাজ ওসমানী থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। প্রথম দিকে বেশ কিছুদিন লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০১ সালে আবার এ বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ওই সময় ওসমানীকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করতে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। উন্নয়নকাজ শেষে ২০০৬ সালের ১২ মার্চ দুবাই থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ (বিজি০২০) অবতরণের মাধ্যমে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ফের ঘোষণা দেয়া হয়। এর পর আবার ওসমানীতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর ফের লন্ডন থেকে দুবাই হয়ে ওসমানীতে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের একটি সুপরিসর এয়ারবাস (ডিসি-১০)। তবে রি-ফুয়েলিং স্টেশন না থাকায় লন্ডন প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলে ছিল না সিলেট-লন্ডন সরাসরি কোনো ফ্লাইট। জ্বালানি সুবিধা না থাকায় বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোর বিমান এত দিন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি।
আপনার মন্তব্য