০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩২
নগরীতে এখন পশুর কোরবানির হাট কয়টি তা ঠিক হিসেব করে বলা যাবে না। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বসেছে হাট। একটু খোলা যায়গা পেলেই পশুর হাট বসানো হয়েছে। হাট বসেছে রাস্তার উপরও। সবমিলিয়ে নগরীতে পশুর হাটের সংখ্যা অর্ধশত হবে।
তবে এর মধ্যে বৈধ মাত্র দুটি। বাকী সবগুলো হাটই অবৈধ। গায়ের জোরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আর ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মিলে বসিয়েছেন এসব অবৈধ হাট। প্রশ্রয় আছে প্রশাসনের।
এসব অবৈধ হাটের কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বৈধ ইজারাদারা। সিলেট নগরীর বৈধ দুটি হাট কাজিরবাজার ও মেন্দিবাগের কয়েদির মাঠ।
এবছরই প্রথমবারের মতো কয়েদির মাঠ ইজারা দেয় সিটি করপোরেশন। ২৬ লাখ টাকায় এই হাট ইজারা নেন সিরাজুল ইসলাম শামীম। তবে তার ইজারার নেওয়ার আগে থেকেই অবৈধ দখলাদাররা দখল করে রেখেছে এ মাঠ। এখন পর্যন্ত মাঠের দখল পাননি ইজারাদার। পুলিশ ম্যাজিস্ট্র্যাট নিয়ে গিয়েও অবৈধ দখলদারদের হঠাতে পারছে না সিসিক। এই হাটের দখল নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষও হয়েছে।
এদিকে অর্ধশতাধিক হাট বসলেও এখনো কেনাবেছার ধুম পড়েনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তেই কেনাকাটার ধুম পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। এবার গরুর দামও গতবছরের চেয়ে বেশি বলে দাবি বিক্রেতাদের।
কোরবানীর পশুর হাটের বিক্রেতারা জানান, গত বছর ঈদের আগের রাতে হঠাৎ করেই ধ্বস নেমেছিলো কোরবানীর পশুর বাজারে, প্রচুর চাহিদা থাকার পরও ছিলোনা পশুর চালান, আর এর পেছনে অবৈধ পশুর হাটগুলোই দায়ী ছিল। এবারও তাদের দাবি, প্রশাসনের কড়া নজরদারি না থাকলে এবারও একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটবে।
নগরী ঘুরে দেয়া যায়, কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই বসে গেছে বেশ কয়েকটি গরুর হাট। এরমধ্যে বড় আয়োজনে হাট বসেছে আখালিয়ার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র মাঠে, কদমতলী ভার্থখলা মসজিদ মাঠে এবং অপরটি শাহী ঈদগা’র সদর উপজেলা খেলার মাঠে। নগরজুড়ে ব্যাপক প্রচারণার তোরণ ও মাইকিং ছাড়াও ঘরে ঘরে লিফলেট বিতরণ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন এ দুটি হাট সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও নগরীর আরো বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়কের পাশেই বসেছে পশুর অবৈধ হাট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পশু বিক্রেতা জানান, প্রতি বছরই কয়েকটি সিন্ডিকেট নগরীর বিভিন্নস্থানে কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই পশুর হাট বসায়। আর এ সকল হাটে অনেকটা জোরপূর্বক পশু বিক্রেতাদের বাধ্য করা হয় এ সকল হাটে পশু বিক্রি করার জন্য। এ ব্যাপারে প্রশাসনও জোর নজরদারি করেনা বলেও দাবি করেন তারা।
কাজিরবাজার পশুর হাট মালিক আফসর উদ্দিন বলেন, “কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবেই নগরীর সবকটি প্রবেশ পথের কোন না কোন স্থানে অবৈধ পশুর হাট বসায়, এর ফলে মূল হাটগুলোতে আসার পথেই তারা জোরপূর্বক পশু বিক্রেতাদের গাড়ি আটকিয়ে তাদের হাটে বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে সাধারণ ক্রেতারা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তার থেকে বেশি প্রতারিত হন সাধারণ পশু বিক্রেতারা। এ সকল হাটে বাধ্য হয়ে গরু বিক্রি করতে এসে তাদের অনেকেই তাদের সর্বস্ব হারান”।
তবে এবার অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিলেটের প্রশাসন বেশ জোরালে পদক্ষেপ রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, “আমরা দুটি পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছি, তবে এবারও গতবছরের মতো কিছু অবৈধ পশুর হাট বসতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে”।
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম চৌধুরী বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক অনাহুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, এছাড়াও পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধ গরুর হাট নিয়ন্ত্রণেও জেলা প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে”।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান জানান, নগরীতে অবৈধ পশুর হাট ও গ্রাহক হয়রানি প্রতিহত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
আপনার মন্তব্য