বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:১৭

কারাগারে থেকেও অস্ত্র-মামলার আসামি

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

কারাগারে থাকাকালীন সময়ে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী সিলেটের শাহপরান থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া আরও একাধিক ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় আমার জীবন দুর্বীসহ হয়ে পড়েছে। শফিকুর রহমান বাবুল নামের একজনের রোষাণলে পড়ে আমি এখন সর্বশান্ত হয়েপড়েছি।

শুক্রবার (৯সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ নতুন বাজারস্থ বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমনই অভিযোগ তুলে ধরেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক যুবক। তিনি উপজেলার রহমান নগর গ্রামের আবদুর রুপের ছেলে।

এদিকে মামলায় হয়রানীর শিকার হয়ে দেলোয়ার মাসুক আলী ও শফিকুর রহমান বাবুলর বিরুদ্ধে গত ১০ আগষ্ট পুলিশ সুপার বরাবরে এবং ১৭ আগষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মামলাবাজ মাসুক আলী ও বাবুলর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনসহ সকল মহলের সহযোগিতা ও সু-বিচার কামনা করেন দেলোয়ার।

লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার বলেন, রহমান নগর গ্রামের শফিকুর রহমান বাবুল ও মাসুক আলী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সর্বশান্ত করছেন তাকে। ২০১৩ সালে মাসুক আলীর মেয়ে একই গ্রামের রফিক আলীর সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ওই ঘটনায় মাসুক আলী বাদি হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে তার কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তাকে আসামি করা হয়। এরপর ঐ মামলায় আদালত থেকে দেলোয়ার খালাস পান। এরপর তাকে ঘায়েল করতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাবুলর প্ররোচনায় পড়ে মাসুক আলীর বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় তাকে আসামী করা হয়। মাসুক আলীর কারসাজিতে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী একই দিনে শাহপরান থানায় দেলোয়ারের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি ও একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ঐ সময় দেলোয়ার কারাগারে ছিলেন। ফলে ঐ দুটি মামলা আদালত খারিজ করেন।

এরপর চলতি বছরের ২ জানুয়ারী রহমান নগর গ্রামের রফিক আলীর স্ত্রী ও মাসুক আলীর মেয়ে আমিনা বেগম বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এঘটনায় ৪ জানুয়ারী দেলোয়ারকে থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে এবং ফরোয়ার্ডিংয়ে আমিনা হত্যা মামলায় আসামী করা হয়। ২মাস ১৬দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন। এ মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও চার্জশিটে দেলোয়ারকে অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশিটে পূর্বের মামলাগুলোর রেফারেন্স উল্লেখ করে তাকে চিহিৃত অপরাধী বানানোর পায়তারা করা হয়। ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর কতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত একটি ডাকাতি মামলায় অন্য এক দেলোয়ারের নাম ব্যবহার করে চার্জশিটে ওই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি আদালতে মাসুক আলী ১০৭ ধারা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেলোয়ার ও তার দুই ভাইসহ ৫জনকে আসামী করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত