সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০২ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:৪২

সুনামগঞ্জে ঝড়ে ৯ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি, শতাধিক ঘড়বাড়ি বিধ্বস্থ

সুনামগঞ্জের দিরাই, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় বুধবার বিকেলে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে এই ক্ষতি হয়

ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে দিরাই, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার বিকেলে এ তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে বিধ্বস্থ হয়েছে কয়কে শতাধকি ঘরবাড়ি।

দিরাই উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রণধীর  চৌধুরী জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়ন, করিমপুর, ভাটিপাড়া ও রফিনগর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বোরো জমির পাকা ও আধাপাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জামালগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মুকসেদুল হক জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়ন, ফেনারবাক ও জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৪ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা সোয়েব আহমেদ জানান, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়ন, সুখাইররাজাপুর উত্তর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ৪ শতাধিক হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ হাওরগুলো হচ্ছে, ধানকুণিয়ার হাওর, সোনামড়ল, চন্দ্র সোনারতাল হাওরের ধারাম এলকালা এবং গুরমার হাওর।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের জগন্নাথপুর প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুরে ঝড়ে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি বিধ্বস্থ হয়। শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঝড়ো হাওয়ার পর থেকে উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছন্ন রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী সূত্র জানায়, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের পুঞ্জি মাঝপাড়া, রৌয়ারকান্দি, বেতাউকা, দাসনোওয়াগাঁও এলাকায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়।

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের পুঞ্জি গ্রামের ফিরোজ মিয়া জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে আমার ঘরটি সম্পুর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এখন আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে অন্যর বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্ঠা করছি।

একই এলাকার ইনারা বেগম বলেন, আমার ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এছাড়াও আমাদের এলাকার প্রায় শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। রৌয়ারকান্দি এলাকার তেরা বেগম বলেন, দিনমজুরীর কাজ করে কোন রকম বেঁচে আছি। এরমধ্যে ঝড়ো হাওয়ায় বসত ঘর পড়ে যাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছি।

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মাহমুদ বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে ইউনিয়নের দুই শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বোরো ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে  জগন্নাথপুরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের মুল লাইনে গাছপড়ে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি পড়ে গেছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জিন্নাত আলী জানান, বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, কালবৈশখী ঝড়ে কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। আমরা  ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ শুরু করেছি।

আমাদের দিরাই প্রতিনিধি জানান, দিরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও প্রচন্ড শিলা বৃষ্টিতে উঠতি বোরো ফসল ও বাড়ি-ঘরের টিনের চালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, বুধবার বেলা আড়াইটায় কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এতে উপজেলার  জগদল, করিমপুর, ভাটিপাড়া ও রফিনগর ইউনিয়নের আওতাধীন চাপতি, আয়লা সাউডা ও ফাগনার হাওরের উঠতি বোরো ফসল ও বাড়ি-ঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তবে তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপন করা যায় নি।

ভাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন শিলার প্রচন্ড আঘাতে শুধু তার ইউনিয়নে সহস্রাধিক কাচা ঘর-বাড়ির টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জগদল ইউনিয়নের অবস্থাও একই বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম।

আমাদের তাহিরপুর প্রতিনিধি জানান, তাহিরপুরে বজ্রপাতে ইয়াজুল হক(১৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের জানে আলমের ছেলে।

বুধবার বিকাল ৩টায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাতিয়ান হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়ে ইয়াজুল হক গুরুতর আহত হয়। পরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন। তাহিরপুর থানার ওসি শহিদুল্লাহ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত