১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৭
উদ্ধারের দুই দিন পর শুক্রবার রাতে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবকটি মারা যায়।
৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ছয়টায় কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে আহত অবস্থায় হরিণ শাবকটিকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আহত শাবকটিকে চিকিৎসার জন্য শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে হস্তান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেটি মারা যায়।
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে হরিণটিকে মাটিচাপা দিয়েছে বনবিভাগ।
শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব জানান, দুর্বৃত্তদের ছোরার আঘাতে হরিণ শাবকটির শ্বাসনালীর অনেকখানি কেটে যায়। এ ছাড়া মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙে যায়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভেটেরিনারি সার্জন জানান, শাবকের শরীরের ভেতর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এ কারণেই সেটিকে আর বাঁচানো গেল না।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া শেষে শাবকটিকে শুক্রবার রাতেই মাটিচাপা দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিজিবি কাঁঠালকান্দি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ইসমাইল মিয়ার বাড়ির পাশে এক দল দুর্বৃত্ত এই মায়াহরিণের শাবকটিকে ধরে এনে জবাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বনাঞ্চল থেকে লোকালয়ে এসে সেটি দুর্বৃত্তদের হাতে ধরা পড়েছিল।
পরে খবর পেয়ে কাঁঠালকান্দি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার মো. মালেক ও হাবিলদার বায়রন দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহত অবস্থায় হরিণ শাবকটিকে উদ্ধার করেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি হরিণ শাবকটিকে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে হস্তান্তর করে।
শ্রীমঙ্গল সেক্টরের ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মাহমুদ বলেন, 'হরিণ শাবকটির মৃত্যুর কথা শুনে খুব কষ্ট হচ্ছে। সেটিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হলো না।'
আপনার মন্তব্য