১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০১:২০
কোরবানি ঈদের বাকী মাত্র একদিন। মঙ্গলবার ঈদ। এইদিনই পশু কোরবানি দেওয়া হবে। অথচ এখনো সিলেটে জমে উঠে নি দা, ছুরি, চাপাতির বেচাকেনা।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সিলেটের বন্দরবাজার ও ক্বীনব্রিজ সংলগ্ন ছুরি-চাপাতি ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে এমনটি জানা যায়।
দাম বেশি থাকায় গরুর বেচাকেনা কম হওয়া ও জঙ্গিবাদী তৎপরতার প্রভাবে ছুরি-চাপাতি ব্যবসায় ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ঝামেলায় পড়তে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক বিক্রেতা এ বছর চুরি-চাপাতি বিক্রি করছেন না।
বন্দরবাজার এলাকার ছুরি বিক্রেতা তরমুজ খাঁ সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কোরবানির জন্য দা, ছুরি, চাকু ও চাপাতি ইত্যাদি কম বিক্রি হচ্ছে। গরু বা ছাগলের দাম অন্য বারের তুলনায় এবার অনেক বেশি। আগে যারা ২টা পশু কোরবানি দিতেন এখন তারা দিচ্ছেন ১টা। অন্যবার যে টাকা দিয়ে ৩টা গরু কোরবানি হতো, সে টাকা দিয়ে ২ টা কিনতে পারছেন। হাতে আরো ১ দিন সময় থাকায় ছুরি-চাপাতি বিক্রি বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
চাপাতি বিক্রির ব্যাপারে তিনি বলেন, শুধু মাত্র কোরবানি ঈদ উপলক্ষেই চাপাতি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বছরের অন্য সময় এভাবে প্রকাশ্যে এটি বিক্রি হয় না।
চাপাতি বিক্রিতে কোন বিধি নিষেধ আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই। তিনি বলেন, জঙ্গি তৎপরতার কারণে অনেকেই এখন এসব কিনে নিতে ভয় পাচ্ছে।
সাইফুল মিয়া নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, দুই দিন হল ছুরি-চাপাতি নিয়ে বসেছি। ঈদের আর মাত্র ১ দিন বাকি। এখনো পর্যন্ত কেনো ভালো বিক্রি হচ্ছে না তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রত্যেক বছর কম-বেশী লাভ হলেও এবার আসল উঠবে কিনা তা নিয়েই চিন্তিত তিনি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, পশু জবাইয়ের বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৫০০ টাকায়, চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, চামড়া ছাড়ানোর চাকু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৮০ টাকায়, কোপ ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকায়, বিভিন্ন রকমের দা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪০০ টাকায়।
সালেহ আহমদ নামের এক ক্রেতা বলেন, চামড়া ছাড়ানোর জন্য ছুরি নিতে এসেছি। কিন্তু এখানে যে মানের ছুরি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো এক বার ব্যবহারের পর আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না। নিজে কামারকে দিয়ে বানালে মজবুত করে বানানো যায়। এবার সময় পান নি বলে কামারকে দিয়ে বানাতে পারেন নি। তাই বাধ্য হয়েই এখান থেকেই কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভালো ছুরি-চাপাতি কিনলে ৪-৫ বছর ব্যবহার করা যায়, অন্যথায় প্রতিবছরই কিনতে হয়। আর এবারের কোরবানির পশুর বাজার মূল্যও অন্যবারের থেকে অনেক চড়া।
আপনার মন্তব্য