শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫১

হবিগঞ্জে কারাবন্দীদের খাবার দিতে স্বজনদের ভিড়

“একটা পুলা আমার। খালি কলেজে উঠছিল। সামান্য মারামারির মামলায় ৪ মাস ধইরা পুলাটা জেলে। ঈদের সময় পুলাটারে জেলে রাইক্কা গলা দিয়া গরুর মাংস নামে না। এর ল্যাইগ্গা পিঠা, ভাত, গরুর মাংস লইয়া আইছি।

বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া থেকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে কাজল বানু এসেছেন তার ছেলে সোয়েবের সাথে দেখা করতে। কারাগারের প্রদান ফটকের সামনে অনেকটা বিলাপ করেই বললেন এই কথাগুলো।


গতকাল পালিত হয়েছে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। ঈদ উপলক্ষে ৩দিন আসামিদের স্বজনরা বাসার তৈরি খাবার দিতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ এই বিশেষ সুযোগ দেয়ায় ঈদের খাবার বন্দী আসামিদের দিতে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিল স্বজনদের ভীড়।

বুধবার ঈদের দ্বিতীয় দিন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের বাহিরের গেইট ও ভিতরে ভিতরে  কারাবন্দীদের স্বজনদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

কারাগারে প্রধান ফটকের কারারক্ষী মুখলেস হোসেন খন্দকার জানান, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকে গেটে বন্দিদের স্বজনরা ভিড় করছেন। বেশিরভাগ স্বজনরা খাবার নিয়ে আসছেন বটিতে করে। এইজন্য চেকিং এ সমস্যা হয়। তাই খাবার পলিথিনে করে আনার জন্য বলতে হয়।

কাশেম নামে এক বন্দির বোন জানান, “মারামারির সময় আমার ভাই বাড়িতে ছিল না। তারপরও মিথ্যা মামলায় আমার ভাইকে জেলে দেয়া হয়েছে। ৪ বছরের একটা ছেলে আছে আমার ভাইয়ের। ঈদের দিন বাপরে না পাইয়া কান্নাকাটি করছে। আজকে লইয়া আইছি বাপের সাথে দেখা করাইবার ল্যাইগ্গা। বন্দি কাশেমের বোন শাহানা আরো জানান তার ভাইয়ের জন্য রুটি মাংস নিয়ে এসেছেন ”

মাধবপুর উপজেলার হরুপুর থেকে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন আফরোজা। তিনি জানান ৭ মাস যাবত ডাকাতির মামলায় জেলে আছেন তার স্বামী আবুল কাশেম। আফরোজা বলেন, আমার স্বামী সত্যি  যদি ডাকাতি কইরা জেলে আইতো তাহলে মনরে মানাইতে পারতাম। সন্দেহমূলক ভাবে ধইরা নিয়া আইছে।

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত আলী জানান, ঈদের দিন কারাবন্দীদের জন্য ৩ ধাপে ঈদ নামাজ পড়ানো হয়েছে। সারা দিনই উন্নত মানের খাবার দেয়া হয়েছে বন্দিদের।  সকালে ফিরনি ও মুড়ি দেয়া হয়েছে। দুপুরে ভাত, গরু ও খাসির মাংস এবং রাতে ভাত, রুইমাছ মুড়িঘন্ট  ও পানিয় দেয়া হয়েছে। খাবারের পর পান সুপারির ও ব্যবস্থা ছিল।  

তিনি আরো জানান ঈদ ও এর পরের ৩ দিন কারাবন্দীদের সঙ্গে তাদের স্বজনেরা দেখা করতে পারবেন । এ দিনগুলোতে ঘরের তৈরি খাবারও খেতে পারে আসামীরা। এই জন্য প্রচুর ভিড় হচ্ছে। এই ভিড় সামাল দেয়ার জন্য আলাদা গার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগারের প্রধান গেইট থেকে ৩ ধাপের চেকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের পরেই তারা স্বজনদের খাবার খেতে পারবেন।


আপনার মন্তব্য

আলোচিত