মাধবপুর প্রতিনিধি

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৯

মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মাধবপুরে হত্যাকারী সনাক্ত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আলোচিত শিবু হত্যার রহস্যের জট খুলেছে।

পুলিশ শিবুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্রধরে ঘাতকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। শিবুর ব্যবসায়িক পার্টনার কেন শিবুকে হত্যা করল তা এখনও তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছে না পুলিশ।

শিবু সরকার পেশায় ছিল অটোরিক্সা মেকানিক। ওস্তাদ মানিক সরকারের নিকট কিছু কাজ শিখে চট্টগ্রাম গিয়ে সিএনজি মেরামতের কাজ পুরোপুরি রপ্ত করে নিজ গ্রাম সুরমায় নোয়াহাটি মোড়ে একই গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে শিপন মিয়াকে নিয়ে সিএনজি মেরামতের দোকান দেয়।

দোকান দেওয়ার একদিন পর গত ৫ জুলাই অজ্ঞাত কারণে উপজেলার সুরমা গ্রামের অনিল সরকারের ছেলে সিএনজি মেকানিক শিবু সরকারকে খোজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ৭ জুলাই শিবু সরকারের ভাই নিবু সরকার মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। জিডি নং-২৮২।

৯ জুলাই সকালে পথচারীরা দেখতে পান কাটেঙ্গা বিলে এক যুবকের মরদেহ ভেসে উঠে। পরে শিবুর স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিবুর লাশ সনাক্ত করে। এ ব্যাপারে শিবুর ভাই নিবু বাদী হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য দিলিপ পালসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশীষ কুমার মৈত্র মামলার এজাহারভূক্ত ৪ আসামীকে ধরে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন ফল পাননি। পরবর্তীতে শিবুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক যুবককে আটক করে তদন্ত কর্মকর্তা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার ক্লু বের করেন।

আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিবুর ব্যবসায়িক পার্টনার শিপন ও জানে আলমের কাছ থেকে মোবাইলটি ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন তিনি।

তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সুরমা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জানে আলম ও আনোয়ার মিয়ার ছেলে শিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশীষ কুমার মৈত্র সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শিবু হত্যার ঘটনা উন্মোচন করা হয়েছে। কিলিং মিশনে বাকি যারা জড়িত তাদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি শীঘ্রই এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা যাবে।

মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, শিবু হত্যা একটি সূত্র বিহীন মামলা ছিল। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমেই শিবু হত্যার রহস্য বের করা সম্ভব হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত