হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:২৮

হবিগঞ্জে থিয়েটারের ভেতরে ২ নারী নাট্যকর্মীর উপর হামলা

হবিগঞ্জে নাটকের রিহার্সালের সময় থিয়েটার কক্ষে ঢুকে ২ নারী নাট্যকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে একদল বখাটে যুবক। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল সড়কে অবস্থিত খোয়াই থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত দুই নাট্যকর্মীর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খোয়াই থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন খান জানান, সোমবার দুপুরে থিয়েটারে নাটকের রিহার্সাল করতে আসেন ওই দুই নাট্যকর্মী। এ সময় তিন যুবক রুমের ভেতর অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। রুমে প্রবেশ করার জানতে চাইলে হামলাকারীরা জানায়, তাদের বাড়ি রিচি। তারা রিচি গ্রামের নাম উল্লেখ করায় আমি তাদের বললাম, “তোমরা যে জায়গায় প্রবেশ করেছ, এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা তোমাদের গ্রামের এমপি আবু জাহির সাহেব।” আমার কথা শুনে তারা বলে “এসব এমপি-টেম্পি আমরা মানি না।” বলেই আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে মেয়েদের উপর হামলা চালায় বখাটেরা। আমি তাদেরকে রক্ষা করতে চাইলে তাদের মধ্যে ২ জন আমাকে ধরে রাখে। এসময় আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বখাটেরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ওই নাট্যকর্মীকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলাকারীরা হল, শহরতলীর রিচি গ্রামের টেনু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, একই এলাকার দিলার মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান আকাশ ও সফিক মিয়ার ছেলে আলী রেজা রাজু।

এ হামলার নিন্দা জানিয়ে খোয়াই থিয়েটারের সভাপতি নীলাদ্রি শেখর টিটু বলেন, থিয়েটারে ডুকে মেয়েদের উপর হামলার বিষয়টা সবার জন্য চিন্তার বিষয়। এমনিতেই মঞ্চে কাজ করতে নারী কর্মী নিয়ে আমাদের সংকটে পড়তে হয়। এমন জঘন্য কাজের সুষ্ঠু বিচার না হলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নারীকর্মী সংকটে পড়বে।

এদিকে হামলার ঘটনার পর সামাজিকভাবে সমাধান করার জন্য দোষীদের অভিভাবকরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সামাজিকভাবে উপযুক্ত বিচার না পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান নীলাদ্রি শেখর।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি ইয়াসিনুল হক বলেন, এ ঘটনার মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যুবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিন্দা
খোয়াই থিয়েটারের নাট্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জীবন সংকেত নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতি অনিরুদ্ধ কুমার ধর শান্তনু, সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ বিশ্বাস, কবিতা পরিষদের সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বাপা'র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, লেখক সিদ্দিকী হারুন, কবি অপু চৌধুরী, বর্ণমালা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক দিপুল রায়, চলচ্চিত্র পরিচালক মুক্তাদির ইবনে সালাম, নাট্যভাস্কর পর্ষদের সভাপতি সাইফুর রহমান চৌধুরী পাপলু, সহযাত্রী নাট্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় শান্ত, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের সদর থানার সাধারণ সম্পাদক সুবির রায়, নৃত্যভূমির সভাপতি সুজন চৌধুরী, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আরফিন আবদাল রিয়াদ, সন্ধান হবিগঞ্জের সভাপতি মাহবুবুর রহমান হাসান, স্বপ্নযাত্রা সোসাইটির সভাপতি মিজানুর রহমান আরিফ, প্রজ্বলন সাহিত্য পরিষদের সদস্য রাজিব ভট্টাচার্য।

এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানান ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত