২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৫
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগী আসছেন দল বেঁধে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
এভাবেই প্রায় চার বছর ধরে ৩১ শয্যার জনবলে চলছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। ২০১২ সালের ১লা ডিসেম্বর হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যায় জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে গিয়ে উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তারদের নিয়ে আসা হচ্ছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে টেকনিশিয়ানের অভাবে পড়ে আছে অত্যাধুনিক ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিনটি।
সার্জারি ডাক্তার না থাকায় শুধু মাত্র প্রসূতি মায়েদের ছাড়া অন্য কোনো অপারেশন করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ৩১ শয্যার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পদগুলো (জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া)ও ডেন্টাল সার্জন পদে পূরণ করে রাখা হয়েছে মেডিকেল অফিসার দিয়ে। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা জটিল রোগীরা।
সে কারণে সেখানে চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এর মধ্যে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদসহ বহির্বিভাগের জন্য ৫০ শয্যা হাসপাতালের যেসব সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন সেসব বিশেষজ্ঞ পদে নেই কোনো ডাক্তার। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, চক্ষু, চর্ম, নাক-কান-গলা, হৃদরোগ, অর্থোপেডিক্স, অ্যানেসথেসিয়া ও প্যাথলজিস্ট পদে নতুন করে এখন পর্যন্ত কোনো পদায়নই দেয়া হয়নি। সেখানে আউটডোরের ডাক্তারদের এনে ওভার ডিউটির কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্তঃবিভাগেও কোনো ডাক্তার নেই।
যেখানে হাসপাতালটির প্রতি শিফটে দুই জন করে ডাক্তার থাকার কথা সেখানে একজনও নেই। জরুরি বিভাগেরও একই অবস্থা। ডায়রিয়ার খাবার স্যালাইন ও শিরা পথের স্যালাইনের নেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ। যা আছে চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল।
তাছাড়া ভর্তিকৃত রোগীদের ৩১ শয্যার বরাদ্দকৃত রোগীদের খাবার ভাগ করে দেয়া হচ্ছে ৫০ শয্যার রোগীদের মধ্যে দীর্ঘ চার বছর ধরে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে আসছে। এছাড়া ৭০ জন রোগী গড়ে জরুরি বিভাগে আসে। এসব রোগীর মধ্যে বিষ খাওয়া, আগুনে পোড়া, এক্সিডেন্ট, কোপ ও মাথা ফাটার রোগীর সংখ্যাই বেশি। ৫০ শয্যার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হলে এ হাসপাতালে রোগীদের আরো উন্নত সেবা দেয়া যেত।
আপনার মন্তব্য