সৌরভ আদিত্য, শ্রীমঙ্গল

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২১

শ্রীমঙ্গলে জমে উঠেছে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি

ঘনিয়ে এসেছে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শ্রীমঙ্গলের প্রতিমা শিল্পী, পূজা উদযাপন কমিটি ও প্যান্ডেল-মঞ্চের কারিগররা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজা প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সভা।

পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় শ্রীমঙ্গলের পাড়াগুলোতে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। কাজের চাপ বেশি থাকায় পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন বাড়ির নারীরাও। এখন চলছে বাঁশ, খড় আর কাঁদা মাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেয়ার প্রাথমিক কাজ।

কাঁদামাটি দিয়ে পরম যত্নে দেবীর মুকুট, হাতের বাজু, গলার মালা, শাড়ির পাড়, প্রিন্ট ও ঠাকুরের চুল তৈরি করছে। এরপর প্রতিমাতে দেওয়া হবে রং তুলির আঁচড়। দৃষ্টিনন্দন আর নানা বৈচিত্রময় ভঙ্গির এসব দেবি মূর্তিগুলোর শৈল্পিক নির্মাণে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এসব মৃৎ শিল্পিরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গলের রুপশপুর এলাকার মূর্তি কারিগরদের ব্যস্ততা এখানে প্রায় দেড় শতাধিক দূর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির জন্য বাঁশ, খড়, মাটিসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি প্রতিমার মূল্য। তবে আর্থিকভাবে লাভবান না হলেও পৈত্রিক এ পেশা ধরে রাখতেই কাজ করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা।

মূলত প্রতিমা তৈরি করেই চলে এদের সংসার। পূজার একমাস আগ থেকে শুরু হয় প্রতীমা তৈরির কাজ। এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখানে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রতীমা তৈরি। প্রতি বছর দুর্গাপূজায় এ গ্রামের তৈরি প্রতিমা মৌলভীবাজার জেলাসহ আশপাশের হবিগঞ্জ, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়।

এদিকে, শ্রীমঙ্গল শহরের শ্রীশ্রী দূর্গাবাড়ী, শ্রী শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়ী, মাষ্টারপাড়া পূজা সংসদ, ডাকবাংলা পুকুর পাড়, স্বরলিপি সংঘ শাপলাবাগ, দক্ষিন রুপশপুর, যুব দূর্গা সুবজবাগ, আদর্শ শ্রীমঙ্গল, পূর্বাশা কালীবাড়ী, লালবাগ পূজা মন্দির প্রাঙ্গনসহ সদর উপজেলার ১৬৫টি পূজা মণ্ডপে এখন সারি সারি সাজানো হচ্ছে নানা আকার আর ঢংয়ের দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ আর মহিষাসুর-সঙ্গে দেবীর বাহন।

শ্রীমঙ্গলের মৃৎ শিল্পী হনুমান পাল জানান, রাত দিন জেগে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ও তার সহযোগীরা এ প্রতিমাগুলো নির্মাণ করছেন। প্রতিমা তৈরিতে যে পরিশ্রম আর খরচ হয় সে তুলনায় বিক্রি করে লাভ হয়না। এ শিল্প থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রতি বছর সরস্বতী এবং দুর্গাপূজায় তারা ব্যস্ত সময় পার করে থাকেন। এই দু’টি মৌসুমের উপার্জিত অর্থ দিয়েই তাদের পুরো বছর পার করতে হয়। ভিন্ন পেশার অভিজ্ঞতা না থাকায় অভাব অনটন তাদের ঘিরে থাকে সার্বক্ষণিক। আর এই অভাব অনটন থেকে বাঁচতেই তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

নারী কারিগর দিপ্তী রানী পাল জানান, পুরুষদের সহযোগিতা করতেই প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। তবে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। একদিকে সুতা, বাঁশ-কাঠের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে পরিবারের সকলকে নিয়েই কাজ করি। এতে যে পরিশ্রম হয় সে পরিমাণ মূল্য আমরা পাই না। সরকার যদি সহায়তা করতো তবে সংসার স্বচ্ছলভাবে চলতো ও এ শিল্পটি আরো উন্নত করা যেতো।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুশীল শীল জানান, দুর্গা প্র্রতিমা যারা তৈরি করেন তাদের কারখানার অবস্থা করুণ, এসব কারিগররা দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন উল্লে­খ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বল্পসুদে ঋণ দেয়ারও দাবি জানালেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সনজয় রায় রাজু জানান, আসন্ন দুর্গাপূজার সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে এবার ৯টি ইউনিয়ন ১৬৫ টি পূজা মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত