সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫১

সিলেটে জাসদের মুনির, তপন, জুয়েল স্মরণসমাবেশ

মনির, তপন ও জুয়েল স্মরণসমাবেশে বক্তারা বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াত-শিবর চক্র যে রগ কাটা ও মানুষ হত্যার সাম্প্রদায়িক সহিংস রাজনীতি শুরু করেছিল তারাই আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত। তাই জঙ্গিবাদের মূল হোতা জামায়াত-শিবর চক্রের রাজনীতি নিষদ্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, শহীদ মনির, তপন ও জুয়েলসহ আশির দশক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত জামায়ত-শিবিরের হাতে নিহত ও নির্যাতিতদের বিচার পাওয়ার দ্বার উন্মোচিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মামলাগুলোর পুনঃতদন্তের মাধ্যমে খুনি জামায়ত-শিবির চক্রের বিচার করতে হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির আহমদের সভাপতিত্বে স্মরণসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। এরপর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় গণসংগীত ও সন্ধ্যায় শহীদ মিনার থেকে নগরীতে আলোর মিছিল বের করা হয়।

মহানগর জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব আলী ও জেলা জাসদ নেতা গিয়াস আহমদের পরিচালনায় জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হাতে শহীদ মনির, তপন ও জুয়েলের ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর জাসদের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, এই হত্যা মামলার বাদি ও সিলেট জেলা জাসদের তৎকালিন সভাপতি ছদর উদ্দিন চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, জেলা জাসদের সভাপতি হাজী কলন্দর আলী, ওয়াকার্স পার্টির সিলেটের সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কমরেড সিকন্দর আলী, মহানগর ন্যাপের সভাপতি মো. ইসহাক আলী, জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ আবদুস সোবহান, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছয়ফুল আলম, মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাযাত কবির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, ঐক্য ন্যাপ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, মৌলভীবাজার জেলা জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম শামীম, সাম্যবাদি দলের নেতা বজ গোপাল চৌধুরী, ৮০ দশকে বাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান, জাসদ নেতা আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, বাবুল হোসেন, কবির আহমদ, হালিম আহমদ, অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া, জহির রায়হান, বাছির আহমদ বাদল, বেলায়েত হোসেন পলিট, দেলোয়ার হোসেন, মো. দেলোয়ার আহমদ।

শহীদ মনির, তপন ও জুয়েল হত্যামামলার বাদি ছদর উদ্দিন চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জামায়াত-শিবিরের হাতে নিহত মনির, তপন, জুয়েল হত্যার মামলা করতে কেউ সেদিন বাদী হতে রাজি হন নি। এমনকি জাসদের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদকও বাদি হননি। এরপর মামলায় যাদেরকে সাক্ষী করা হয়েছিল সেই সব বাম রাজনীতিবিদ নামধারীরা জামায়াতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর সাক্ষ্য দেননি। সে সময় বিচারক থেকে শুরু করে সবাই জামায়াতের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। যার কারণে সেদিন আমরা নারকীয় এই হত্যাকান্ডের বিচার আমরা পাইনি। এখন সময় এসেছে পুনঃরায় এই হত্যা মামলার তদন্ত করে খুনিদের বিচার করার। তিনি বলেন, মনির, তপন ও জুয়েল শুধু জাসদের কর্মী ছিল না তারা মেধাবী ছাত্রও ছিল।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জাকির আহমদ বলেন, বিএনপি জোট দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। একারণে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চক্র জামায়াত-শিবিরকে দিয়ে তারা ৯০ এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত দেশের মেধাবী ছাত্রনেতাসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও যেভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে ঠিক সেইভাবে জামায়াত-শিবির কর্তৃক সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত