ছাতক প্রতিনিধি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩

ছাতকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ

ছাতকে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বেত্রাঘাতের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করায় সম্প্রতি এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। এরপরও শাসনের নামে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা যাচ্ছে না। ঘন-ঘন ঘটছে শিক্ষার্থী পেটানো ঘটনা ঘটছে।

সোমবার পৌর শহরের কুমনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে এমনই একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পৌর শহরের গণক্ষাই এলাকার মৃত আজর আলীর পুত্র মাহমুদ আলম আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাহমুদ আলমের ভাতিজা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মিজানুর রহমানকে লঘু পাপে গুরুদণ্ড দিয়েছেন আশিকুর রহমান। হোম ওয়ার্ক দু’বারের স্থলে খাতায় একবার লিখে আনার অপরাধে মিজানকে কানে ধরিয়ে প্রায় ঘণ্টা নীলডাউন করে রাখেন ওই শিক্ষক। নীলডাউন থাকা অবস্থায় তাকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড় মারতে থাকলে মিজান এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে মাথায় প্রচুর পানি ঢালার পর কিছুটা সুস্থ হলে মিজানকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ে নির্যাতনের বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে জানিয়ে সে পুনরায় বিদ্যালয়ে চলে আসে। ঘটনাটি জানতে মিজানের চাচা মাহমুদ আলম বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন আবারো তাকে কান ধরিয়ে নীল ডাউন করে রাখা হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুটি মিয়াও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। পড়া না পারলে এভাবেই শিক্ষার্থীদের তিনি শাস্তি দিয়ে থাকেন বলে প্রধান শিক্ষক দম্ভোক্তিও করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু দিয়ে পেটানোর অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুটি মিয়া জানান, প্রধান শিক্ষকের এ আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। এছাড়াও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি এ প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে বিরূপ আচরণ করে যাচ্ছেন। সুস্থ মানুষের কোন আচরণ এ শিক্ষকের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য অনেকেই তার অপসারণের দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, আর কখনো তিনি শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু দিয়ে মারবেন না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাস জানান, কুমনা স্কুলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত