মারূফ অমিত

০১ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:২১

'পূজা মানেই তো আমাদের বাগানে মহা আনন্দ'

গুনগুন করে গান গাইছেন। আর আপন মনে প্রতিমা গড়ছেন। অনেকগুলো কচিকাঁচা ঘিরে দেখছে তার প্রতিমা গড়া। দেখে বেশ ফুরফুরে মেজাজ মনে হলো তার।

তিনি জানলেন, হাতে এখনো ৬ দিন সময় আছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই তার কাজ শেষ হবে। এই কাজ করতে তিনি বেশ আনন্দ পান। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। এবার দু'জায়গায় প্রতিমা তিনি তৈরি করছেন। তাই এখানে রাতে কাজ করছেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় নবনির্মিত শাহজালাল সার কারখানার কোলঘেশা মনিপুর চা বাগানের প্রতিমাশিল্পী বিশ্ব আচার্য বিশু কথাগুলো বলছিলেন।

পাহাড়ঘেরা পরিবেশে অবস্থিত মনিপুর চা বাগান সার্বজনীন পূজামন্ডপ। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৩৭ টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে একটি এটি। আসন্ন দুর্গা পূজাকে সমানে রেখে খুব জাঁকজমক না হলেও নিজেদের সাধ্যমত সাজিয়ে নিচ্ছেন প্রতিমা, মন্দির এবং মন্দিরের আশেপাশের এলাকা। এখানে পূজা মানেই মহা উৎসব।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্ব আচার্য বিশু জানান, এখানে তিনি বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করছেন। তার বাবা বিমল আচার্য, পিতামহ বিনদ আচার্য এই মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করেছেন কয়েক যুগ। তাই তিনি আত্মার টানেই এখানে প্রতিমা তৈরি করেন।

মনিপুর চা বাগানের বাসিন্দা শিপু দাশ জানান, আসছে দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে আমরা বেশ কিছু আয়োজন হাতে রেখেছি। গান বাজনার আয়োজন করব।

তিনি জানান, আমরা তো খুব একটা জাঁকজমক ভাবে আয়োজন করতে পারব না। তবুও সবাই মিলেমিশে যা করতে পারি।

পূজা কমিটির সভাপতি সুভাস কর্মকার জানান, আমরা সবাই মিলে চাঁদা তুলে পূজার আয়োজন করছি। সব মিলিয়ে ৮০ হাজার টাকা আমরা সংগ্রহ করেছি। যা দিয়ে চলছে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি। কোম্পানি থেকে কিছু সহায়তাও করা হয়েছে আমাদের ।

মন্দিরের বারান্দায় বসে প্রতিমা গড়ার কাজ দেখতে থাকা নিখিল জানান, পূজার অপেক্ষায় আছি। পূজা মানেই তো আমাদের বাগানে মহা আনন্দ, ভালো জামা কাপড় পড়া, এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো । 

মন্দিরের আশে পাশে থাকা ছোট ছোট দোকানগুলোরও সাজসজ্জায় ব্যস্ত দোকানীরা। তারা জানান, সারা বছরে এই পূজাতেই একটু বেশি বেচা কেনা হয়। বাগানের বাহির থেকেও অনেক অতিথি আসেন। তাই দোকানগুলোকে একটু সুন্দর করে নিচ্ছেন। 

পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালেক জানান, আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব প্রতিটি পূজা মণ্ডপে। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও নিরাপত্তা দেবেন। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সদা প্রস্তুত।

তাছাড়া চা বাগান এবং নিরিবিলি এলাকাতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামি ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা দেশের ন্যায় সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত এখন শিল্পীরা। 

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করতে যেমন ব্যস্ত শিল্পীরা তেমনি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আয়োজকরা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত