মারূফ অমিত

০৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৫২

ভলিবল খেলা ফেলে বদরুলকে ধাওয়া করেন শিক্ষার্থীরা, যোগ দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরাও

সোমবার বিকেলে এমসি কলেজের পুকুর পাড় থেকে খাদিজার আর্তনাদ শুনে ক্যাম্পাসেরই এক পাশে  ভলিবল খেলা ফেলে ছুটে এসে হামলাকারী বদরুল আলমকে ধাওয়া করেন কলেজেরই কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ও পুলিশ। হামলাকারী বদরুলও শাবি ছাত্রলীগের পদধারী নেতা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ শিক্ষার্থী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তখন আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে ভলিবল খেলছিলাম। হঠাৎ পুকুরের পাশ থাকে ভেসে  আসা হৈচৈ আর এক নারী কণ্ঠের চিৎকার শুনতে পাই। প্রথমে মনে হয়েছিলো কেউ একজন পুকুরের পানিতে ডুবে যাচ্ছে। চিৎকার শুনে আমি আর আমার কিছু বন্ধুরা মিলে ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। ঐখানে গিয়ে দেখতে পাই একজন ছেলে একটা মেয়েকে ফেলে চাপাতি দিয়ে কোপাচ্ছে। কয়েকজন পরীক্ষার্থীরা যদিও ব্যাপারটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলো কিন্তু সেই ছেলে তাদের দিকেও চাপাতি নিয়ে তাড়া করেছিলো। তাই প্রাণের ভয়ে কেউ আগাতে পারছিলো না।

তিনি বলেন "খবর পেয়ে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে আসে ততোক্ষণে ছেলেটি তার কাজ শেষ করে পুকুরপাড় দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলো। তখন কেউ এগোতে গেলেই চাপাতি নিয়ে তাড়া করছে।  পুলিশ তখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলে চাপাতি না ফেললে গুলি করবো। এরপর সে চাপাতি ফেলে দেয়। সাথেসাথেই পেছন থেকে কয়েকজন ছাত্র তাকে ধরে ফেলে। আমরা কেউ কেউ মেয়েটিকে উদ্ধারে হাত লাগাই আর অন্যরা হামলাকারীকে শায়েস্তা করতে থাকে।"

হামলাকারীকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ নেতা মাসুম আহমদ মাহী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমি যখন ঘটনাস্থলে পৌছাই তখন সেখানে পরীক্ষার্থীরা সহ সাধারণ মানুষ ও এমসি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাকে সবাই মিলে পাকড়াও করে পুলিশের কাছ তোলে দেয়া হয়।

মাসুম বলেন, "কয়েকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় আর আমরা বাকিরা জড়ো হয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে  এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টিলাগড় পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাই।

উল্লেখ্য, সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে খাদিজা আক্তার নার্গিস নামের এক কলেজছাত্রীকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে বদরুল আলম নামের এক শাবি ছাত্র। গুরুতর আহত খাদিজাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনার পর এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলাকারী বদরুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গণপিটুনিতে আহত বদরুলকেও ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বদরুল শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। তবে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বদরুলের সাথে সংগঠনের কোন সম্পর্ক নেই, ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবেনা। এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হামলাকারী বদরুলকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত