১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৪২
ছাতকের জাউয়া বাজার ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে একই কলেজের একই শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র আল-আমিন।
এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দিলাল হোসেন ও জুনেল আহমদ। আহত এই দুই ছাত্রকে প্রথমে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালে পরে গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক আক্কাসকে আটক করেছে জাউয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।
কলেজ সূত্র থেকে জানা যায়, দোয়ারা বাজার উপজেলা পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের পলির চর শ্রীপুর গ্রামের কাচা মিয়ার পুত্র জাউয়া বাজার ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আল-আমিন ও ছাতক উপজেলা চরমহল্লা ইউনিয়নের চনুয়া গ্রামের রসিক আলীর পুত্র একই শ্রেণির ছাত্র আক্কাস আলী। জাউয়া বাজার ইউনিয়নের দেবেরগাঁও গ্রামে আজহার আলীর বাড়ীতে আল-আমিন এবং খলিল শাহ’র বাড়ীতে আক্কাস আলী লজিংয়ে থেকে লেখাপড়া করতো। রবিবার (১৬ অক্টোবর) আল-আমিন আক্কাসকে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বললে আক্কাস আল-আমিনের দিকে ক্ষেপে উঠে। এই নিয়ে দুইজন এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারপর উভয়ই নিজ নিজ লজিংয়ে চলে যায়।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুইজনই কলেজে আসে এবং আল-আমিন কলেজের ক্লাসরুমে আক্কাসকে মারধর করে কলেজ থেকে চলে যায়। আক্কাস আলী বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গাফফারকে জানালে, তিনি আল-আমিনকে না পেয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে আহত আক্কাসকে চিকিৎসা নেয়ার কথা বলেন।
কিন্তু আক্কাস তার সহপাঠী ৪-৫ জনকে সাথে নিয়ে কলেজ থেকে সিএনজি যোগে জাউয়া বাজার ইউনিয়নের বড়কাপন পয়েন্টে গিয়ে আল-আমিনকে খুঁজে পাওয়া মাত্রই তার সাথে থাকা ধারালো চুরি দিয়ে আল-আমিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আল-আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আক্কাস ও অপর এক ছাত্র নাজমুল হোসেন আহত আল-আমিনকে নিয়ে কৈতক হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসে।
এ সময় কৈতক হাসপাতালের ইনচার্জ ড. মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম আল-আমিনকে মৃত ঘোষনা করলে। ঘাতক আক্কাস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা পুলিশকে খবর দিলে জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস.আই কামরুল হোসাইন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কৈতক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক আক্কাসকে আটক করেন।
জাউয়া বাজার কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গাফ্ফার বলেন, আল-আমিন এবং আক্কাসের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আশেক সুজা মামুন বলেন, দুইজনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘাতক আক্কাসকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।এদিকে সুনামগঞ্জের সদর সার্কেল তাপস কুমার ঘোষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আপনার মন্তব্য