১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫৭
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের সুরিয়ারপাড় গ্রামে ২৮ সেপ্টেম্বর ৬ জন অতিথিসহ ১২ জনকে আটক করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে বর্তমান মেম্বার আংগুর মিয়া ও তার গডফাদার আমির উদ্দিন এর মদদে।
আঙ্গুর মিয়া ও আমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও হামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছে জিম্মি এলাকার লোকজন।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুন নুরের স্ত্রী ও মামলার আসামী সজল আহমদের মা জাহানারা বেগম এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অতিথিসহ আটককৃতদের মুক্তি দাবি করে আমির বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জাহানারা বেগম উল্লেখ করেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিগত ৪০ বছর ধরে সুরিয়ারপাড় নিবাসী সাবেক মেম্বার তার একমাত্র ভাই আবুবক্কর এবং বর্তমান মেম্বার আংগুর মিয়া ও তার গডফাদার আমির উদ্দিনদের মধ্যে হামলা, মামলার ঘটনা চলে আসছে। আবুবক্কর ও তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা ও মামলা করেছে আমির, আঙ্গুররা। সন্ত্রাসী বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তারা নজির বিহীন ঘটনার জন্ম দেয়। ওইদিন পুলিশকে ম্যানেজ করে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার ভগ্নীপতি একই গ্রামের বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী হাজী সমসর উল্লাহর বাড়ি থেকে ১২ জন লোককে আটক করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়। এর মধ্যে তার ছেলেসহ ৬ জনই সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
তিনি জানান, আত্মীয়তার সুবাদে যুক্তরাজ্য প্রবাসী তার ভগ্নীপতি হাজী সমসর উল্লাহ ও বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় তার ছেলে মো. সজল আহমদ। সে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ বনকলাপাড়ার নুরানী আবাসিক এলাকায় তার ফুফুর বাসায় বসবাস করছে। তার সঙ্গে বেড়াতে যায় তারই বন্ধু সুবিদবাজারের বাসিন্দা সুজন, শেখ সম্রাট ও কামাল হোসেন। অন্যদিকে উত্তর সুরিয়ারপাড় গ্রামের ফটিক মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যান তারই বোনের ছেলে জগন্নাথপুর উপজেলার কোবাজপুর গ্রামের হোসেন মিয়া, একই উপজেলার পাটলী গ্রামের কয়েছ আহমদ রাজু ও শাহ কাওসার আহমদ।
৬ জন অতিথি যখন গ্রামে অবস্থান করছিলেন ওইদিন ২৮ সেপ্টেম্বর তাদের নিয়ে ফন্দি আটে আঙ্গুর মেম্বাররা। ওইদিন বেলা ২ টার দিকে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হাজী সমসর উল্লাহর বাড়ি ঘেরাও করে রাখে তারা। পুলিশকে খবর দিয়ে নিয়ে এসে তাদের আটকও করানো হয়। ৬ জন অতিথি ছাড়াও আটক করা হয় আশিকুল, কিশোর রুবেল মিয়া, কিশোর শিপন মিয়া, হাফিজ বদরুল ইসলাম হামজা ও কিশোর শাহিনুর আহমদকে। তারা নাকি ওই বাড়িতে জড়ো হয়ে অস্ত্রের মহড়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক ঘটনার উল্লেখ করে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ সংশোধন ২০১৪ এর ৪/৫ ধারায় দিরাই থানার (মামলা নং ২৬ (জিআর ১৬৭/২০১৬) করা হয়।
জাহানারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে জানান, তার পিতা আলতা মিয়াকে ১৯৭৬ সালে ওই চক্রের সদস্য দালাল আব্দুস সালামের পিতা ইরশাদ আলীসহ অন্যরা খুন করে। খুনী ইরশাদ আলীর সহযোগী আব্দুল অদুদ ১৯৯৫ সালে জাহানারার চাচাতো ভাই নুরুল হক হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। ১৬ আগস্ট ওইসব সন্ত্রাসী বাড়ি ফেরার পথে আবুবক্করকে গুলি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় দিরাই থানায় মামলা (নং ৭) তাং ১৮/৮/২০১৬ করা হয়। ৩০ মে সুরিয়ারপাড় গ্রামে ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আঙ্গুর মিয়া ও তার সহযোগীরা প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার পদপ্রার্থী জাহানারার ভাই আবুবক্কর ও তার পরিবার ও সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করে।
এ ঘটনায় রুজেল মিয়া বাদী হয়ে আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুস সালামসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে দিরাই থানার মামলা (নং ৩ তাং ২/৬/২০১৬) দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ মোট ২৯ আসামীর মধ্যে এ পর্যন্ত একজনকেও আটক করতে পারেনি।
এই ঘটনার ১০ দিনের ব্যবধানে সন্ত্রাসী আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুস সালাম বাহিনী ৮ জুন সন্ধ্যায় আবুবক্কর ও তার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে কাটা রাইফেল পিস্তল ও পাইপগান সহকারে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও দফায় দফায় ভাংচুর ও গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনার দিরাই থানায় মামলা (নং ৯ (জিআর ৮৯/২০১৬) দায়ের করা হয়। ওই চক্রের সদস্য আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে হামলার অভিযোগে সাংবাদিক মোজাম্মেল মামলা করেন। আব্দুস সালাম দিরাই জগন্নাথপুর থানার আরও দুটি মামলার আসামী।
সংবাদ সম্মেলনে জাহানারা বেগম সন্ত্রাসী আমির ও আঙ্গুর মিয়া বাহিনীর হাত থেকে এলাকার লোকজনকে রক্ষার আহবান জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুদের এবং নিরীহ গ্রামবাসীর মুক্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাহানারা বেগমের ছেলে আফজল হোসেন, আত্মীয় সদরুল ইসলাম লোকমান, হোসাইন আহমদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য