১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২২
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) শীর্ষ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ অনুসারী কাউন্সিলরদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে কর্পোরেশনের কার্যক্রমে।
সোমবার বিকেলে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ছ ম মনসুর এর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন সিসিকের কাউন্সিলররা। আজ মঙ্গলবারও (১৮ অক্টোবর) তাঁদের কার্যালয়ে সেই তালা ঝুলছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার কার্যালয়ে আসেননি সিসিকের কর্মকর্তারা। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সিসিকের দৈনন্দিন কার্যক্রম। তালা খোলা না হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে নিজ দলীয় কাউন্সিলরদের ডেকেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।
তালা ঝুলানোর জন্যে কাউন্সিলররা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কম মূল্যে একটি কাজের টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনজনের কার্যালয় তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে সিসিক এর কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ মঙ্গলবার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করে আসছি এবং সিসিকের কার্যক্রম কিভাবে চলছে তা সবার সবার সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে সমাধান না পাওয়ায় আমরা তাঁর কার্যালয়ে তালা দিয়েছি।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এখনো কাউন্সিলরদের সাথে কোনোরকম যোগাযোগ করেননি। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা রাতে কাউন্সিলরদের ডেকেছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে কম মূল্যে টেন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা দিয়েছেন সরকারদলীয় কাউন্সিলররা। তবে এমন অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলে, "এটি একেবারেই মিথ্যা, বরং কর্মকর্তারা তাদের পকেটস্থ স্পেশাল বলে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলরকে টেন্ডারে সুবিধা করে দিয়েছেন। টেন্ডার নিয়ে আমাদের সাথে কোন আলোচনাই করেননি। সুতরাং অনিময় করেছেন কর্মকর্তারা। আমরা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি মাত্র।"
এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকলে আমরা অফিস করবো কিভাবে। এটি আমাদের জন্য অপমানজনকও। তাই আজকে আমরা অফিসে আসিনি। তালা না খোলা পর্যন্ত আসবো না।
তিনি বলেন, বুধবারের মধ্যে কার্যালয়ের তালা খোলা না হলে আমরা এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করবো।
নুর আজিজুর রহমান বলেন, কাউন্সিলররা যে দাবি জানিয়েছেন তা অনৈতিক। ফলে তাদের দাবি মানা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সিসিকের কর্মকর্তারা কাজ করতে না পারায় সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমি আশা করছি শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এদিকে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ (মঙ্গলবার) রাত ৮ টায় কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করবেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ বৈঠকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা।
জানা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন গত বছর সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন লাল দিঘীরপাড় সিটি মার্কেট ভাঙার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে সময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। উচ্চ আদালতে রিটের শুনানি রায় সিসিকের পক্ষে আসে। কিন্তু সরকারদলীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সমঝোতার মাধ্যমে ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় এই কাজ নিতে চান। এ ঘটনা নিয়ে মূলত সিসিকের ওই তিন কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়।
আপনার মন্তব্য